প্রথমবারের মতো জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের ‘লাইভ ফায়ারিং’-এ অংশ নিল পাকিস্তানের নতুন হাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন।
পাকিস্তান আইএসপিআর
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)
বিবৃতিতে জানায়, ‘পিএনএস হাঙ্গর’ নামের সাবমেরিনটি উত্তর আরব সাগরে একটি
জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে একটি “নির্দিষ্ট দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু”কে সফলভাবে আঘাত
করেছে।
আইএসপিআর
এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকে তাদের কর্মক্ষম প্রস্তুতির একটি বড় নিদর্শন
হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে,
এটি দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়
অবদান রাখতে সক্ষম একটি আধুনিক ও
যুদ্ধ-প্রস্তুত নৌবাহিনী বজায় রাখার ক্ষেত্রে
পাকিস্তানের নৌবাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারকেই তুলে
ধরে।
হাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনটি নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর এটিই ছিল
প্রকাশ্যে ঘোষিত প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা।
পাকিস্তান
নৌবাহিনী মোট আটটি হাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন পরিচালনার পরিকল্পনা করছে; এগুলোর জন্য ২০১৫ সালে
‘চায়না শিপবিল্ডিং অ্যান্ড অফশোর ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি’ -এর সাথে চুক্তি
করা হয়।
পিএনএস
হাঙ্গরসহ চারটি সাবমেরিন চীনে ‘উচাং শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি
গ্রুপ’-এর মাধ্যমে তৈরি
করা হয়, যা বর্তমানে
‘চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশন’ -এর অংশ। বাকি
চারটি সাবমেরিন প্রযুক্তি-হস্তান্তর ব্যবস্থার আওতায় করাচি শিপইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসে নির্মাণ করা হচ্ছে।
হাঙ্গর
সাবমেরিন ২০২৬ সালের এপ্রিলে
চীনের সানিয়াতে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত (কমিশন) করা হয় এবং
জুনে করাচিতে এসে পৌঁছায়।
এই সাবমেরিন
যা চীনের ‘টাইপ ০৩৯এ/বি
ইউয়ান-শ্রেণির’ ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিনের নকশার ওপর ভিত্তি করে
তৈরি।
কোটা
কিনাবালুতে যাত্রাবিরতির সময় রয়্যাল মালয়েশিয়ান
নেভি কর্তৃক সাবমেরিনের যে ছবি প্রকাশ
করা হয়, তা থেকে
বোঝা যায় যে এটি
‘টাইপ ০৩৯এ/বি’ সিরিজের
প্রধান বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলোর অধিকাংশই বজায় রেখেছে।
সাবমেরিনটিতে
রয়েছে পানির নিচে চলাচলের জন্য
বিশেষভাবে উপযোগী ‘টিয়ারড্রপ’, সামনের দিকে স্থাপিত ছয়টি টর্পেডো টিউব,
‘সেইল’ বা উপরিভাগে স্থাপিত ডাইভিং
প্লেন, ক্রুশ-আকৃতির পেছনের অংশ (স্টার্ন) এবং
পেছনের দিকে স্থাপিত অ্যান্টি-কাউন্টারমেজার ডিসপেনসার সিস্টেম।