বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি এবং জরুরি অভিযানের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা এবং অন্যান্য অপারেশনাল কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য দুটি মাঝারি আকারের মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (এমএসএআর) হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
তিন অর্থবছরে
ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধ করে হেলিকপ্টার দুটি কেনা হবে। কোস্টগার্ডের নিজস্ব অ্যাভিয়েশন
ইউনিট পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর
সহায়তা নেওয়া হবে। কোস্টগার্ড সদরদপ্তরের প্রস্তাবের ভিত্তিতে হেলিকপ্টার দুটি কেনার
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
আহমেদ এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। রাজস্ব বাজেটের আওতায় ‘আকাশযান ক্রয়’
খাত থেকে ব্যয় নির্বাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ-মিয়ানমার
সীমান্ত আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে নাফ
নদ ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সমুদ্রে অনুসন্ধান
ও উদ্ধার কার্যক্রমে আকাশ সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তাদের মতে,
নতুন হেলিকপ্টার দুটি যুক্ত হলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, মানব পাচার, ইয়াবা ও
অন্যান্য মাদক চোরাচালান এবং সমুদ্রপথে সংঘটিত আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় কোস্টগার্ডের
সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দুর্যোগকালীন উদ্ধার, আইন প্রয়োগকারী অভিযান, উপকূলীয়
এলাকায় দ্রুত নজরদারি এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষায়ও
এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক
বাজার যাচাই করে এ ক্রয়ের প্রাথমিক ব্যয় আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য নির্ধারণ হবে। কোস্টগার্ডের
আকাশযান খাতে বাজেট সীমিত হওয়ায় এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যয়
তিন অর্থবছরে ভাগ করে পরিশোধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কোস্টগার্ডের
নিজস্ব অ্যাভিয়েশন ইউনিট
কোস্টগার্ডের
নিজস্ব অ্যাভিয়েশন ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা নতুন নয়। ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এ বিষয়ে নীতিগত নির্দেশনা দেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল
সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, উপকূলীয় নজরদারি এবং আইন প্রয়োগকারী অভিযানে
আকাশ সক্ষমতা যুক্ত করা। প্রাথমিকভাবে চারটি হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান
অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় কোস্টগার্ড সদরদপ্তর সংশোধিত প্রস্তাব দেয়। পরে দুটি
মাঝারি আকারের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে সরকারি
ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য জলযান,
আকাশযানসহ সব ধরনের নতুন যানবাহন কেনার বরাদ্দ ব্যয় স্থগিত রেখে ৮ জুলাই প্রজ্ঞাপন
জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে চলতি অর্থবছরে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
তৈরি হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সরকার বিশেষ বিবেচনায় অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিষয়টি
বর্তমানে পর্যালোচনাধীন।
নৌবাহিনীর
সঙ্গে এমওইউ হবে
কোস্টগার্ডের
নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত নৌবাহিনীর নেভাল অ্যাভিয়েশন ইউনিট হেলিকপ্টার
দুটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে। এ সহায়তার আওতায় থাকবে হ্যাঙ্গার ও
অ্যাপ্রন ব্যবহার, বিমান জ্বালানি সরবরাহ, কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ, ক্র্যাশ ও ফায়ার
টেন্ডার সুবিধা, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ, জরুরি চিকিৎসাসেবা
এবং কোস্টগার্ডের পাইলট ও ক্রুদের প্রশিক্ষণ।
কোস্টগার্ডের
‘রূপকল্প ২০৩০’-এর আওতায় ব্যাপক আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ
হিসেবে ভবিষ্যতে জনবল বৃদ্ধি, নতুন অফশোর টহল জাহাজ, হোভারক্রাফট, ড্রোনসহ বিভিন্ন
আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন,
নতুন হেলিকপ্টার আধুনিকায়ন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, যা উপকূলীয় নিরাপত্তা,
সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং সীমান্ত নজরদারির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
সমকাল