সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পাঁচ মাস পর নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক সমর্থক তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

তবে দেশে ফেরার সময় দেউবা একদিকে রাজনৈতিক, অন্যদিকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। গত জানুয়ারিতে বিতর্কিত বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পুড়িয়ে দেওয়ার পর অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে যান দেউবা এবং এরপর কয়েক মাস বিদেশে অবস্থান করেন।

জেন-জি আন্দোলনের আগে, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ওলি সরকার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করলে তরুণদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। আন্দোলন দমাতে পুলিশের দমন-পীড়নে বহু তরুণ আন্দোলনকারী নিহত হলে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তীব্র জনরোষের মুখে প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন।

এদিকে, অর্থপাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে নেপালি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তার দেশের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিন পর অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের আবেদনের ভিত্তিতে দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।

বিদেশে অবস্থানকালে দেউবার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির চেষ্টা করেছিল নেপাল সরকার। তবে পরে ২৫ মে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে। এরপরই দেউবা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দেউবার দেশে ফেরায় তার রাজনৈতিক অংশ আরও সক্রিয় হয়ে উঠলেও চলমান অর্থপাচার তদন্তের কারণে রাষ্ট্র তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

দেউবার স্ত্রী আরজু দেউবা ও ছেলে জয়বীর এখনো বিদেশে রয়েছেন। গত বছরের জেন-জি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হামলায় দেউবা দম্পতি গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসার কথা বলে বিদেশে যান। তবে দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

তাদের বিদেশে অবস্থানের সময় সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ে যাওয়ার কথাও শোনা যায়। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হংকংয়ে দেউবা দম্পতির ঘোরাফেরার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও তারা সেখানে থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে তাদের দীর্ঘ বিদেশযাপন ও চিকিৎসার খরচ কে বহন করেছে, তা নিয়ে। দেউবা পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান অর্থপাচার তদন্তের কারণে এই প্রশ্নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

শের বাহাদুর দেউবা নেপালে বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ১৩ জুলাই ২০২১ প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।

দ্য কাঠমুণ্ডু পোস্ট