নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, ‘নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক (এনআরবি)’ শনিবার (১ আগস্ট) ঘোষণা করেছে যে তারা এক রুপির একটি নতুন মুদ্রা বাজারে ছাড়াবে। এই মুদ্রায় যে নেপালের মানচিত্র খোদাই করা থাকছে তাতে দেখানো কিছু এলাকা: লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানিকে ভারত বিরোধপূর্ণ বলে মনে করে।
কাঠমান্ডু
এই এলাকাগুলোকে নিজেদের বলে দাবি করে
আসছে। অন্যদিকে,
নয়াদিল্লি মনে করে ওই
এলাকাগুলি উত্তরাখণ্ডের অংশ।
পিটিআইয়ের এক
প্রতিবেদনে বলা হয়, এনআরবির মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পাউডেল
বলেছেন, ‘‘ব্যাঙ্কটি সরকারিভাবে মুদ্রার নতুন নকশা এখনও
হাতে পায়নি, তবে আমরা নিশ্চিত
যে এতে আগের মানচিত্রটিই
থাকবে।’’
পাউডেল
আরও বলেন, ‘‘আমরা নতুন এক
রুপির মুদ্রাটি বাজারে ছাড়ব। তবে এর আকার
ও ধাতুর উপাদানে পরিবর্তন আনা হবে। আগের
মুদ্রার তুলনায় এটি আকারে ছোট
এবং ওজনে হালকা হবে।’’
ভারত
এবং নেপালের মধ্যে এই মানচিত্র সংক্রান্ত
বিরোধ মূলত উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়
জেলায় ভারত, নেপাল এবং চিনের সংযোগস্থলের
(ট্রাই-জংশন) কাছে অবস্থিত প্রায়
৩৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে কেন্দ্র করে। ওই জায়গা
ভারত এবং নেপাল— উভয়েই
নিজেদের বলে দাবি করে।
মতপার্থক্যের
মূল কারণ হল ব্রিটিশ
অধিকৃত ভারত এবং নেপাল
রাজ্যের মধ্যে ১৮১৬ সালে স্বাক্ষরিত
সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা। নেপালের যুক্তি মহাকালী, যা কালী নদী
নামেও পরিচিত, তার উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরা
থেকে, যা আরও পশ্চিমে
অবস্থিত। এই ব্যাখ্যার উপর
ভিত্তি করে কাঠমান্ডু দাবি
করে যে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ
এবং কালাপানি নেপালের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
তবে নয়াদিল্লির
মতে, কালী নদীর উৎপত্তি
কালাপানি গ্রামের কাছে অবস্থিত ঝর্না
বা জলধারা থেকে। তাই ভারত এই
তিনটি এলাকা নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে
করে।
১৯৬২
সালের যুদ্ধের পর থেকেই ভারত
ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) মাধ্যমে এই অঞ্চলে প্রশাসনিক
নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা উপস্থিতি
বজায় রেখেছে। যদিও এই বিরোধ
দুই শতাব্দীরও বেশি পুরনো, তবে
২০২০ সালে এটি অত্যন্ত
উত্তপ্ত পর্যায়ে পৌঁছোয়।