যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে সাত দিনের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কাছে এই পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো
গত জুন মাসে ওয়াশিংটন
ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা, যার মধ্যে
রয়েছে শত্রুতার অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
চলতি
সপ্তাহের শুরুর দিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে
ওয়াশিংটনে পাঠানো ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি
আলোচনা পুনরায় শুরু এবং গুরুত্বপূর্ণ
এই প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ
তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত
দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ
করতে হবে।
তেল
ও গ্যাস রপ্তানির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব
পড়ার কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর
আরোপিত বিধিনিষেধটি বর্তমানে এই সংঘাতের অন্যতম
প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সামনে এই প্রস্তাব পেশ
করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও
ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু
হওয়া এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে
সপ্তম মাসে পা রাখতে
চলেছে।
পরস্পরের
বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘন করার
অভিযোগে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের
মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
এরপর থেকে উভয় দেশ
আবার চুক্তিতে ফিরে আসতে পারে—এমন লক্ষণ খুব
একটা দেখা যায়নি, যদিও
তেহরান এ বিষয়ে ইঙ্গিত
দিয়ে আসছিল।
নিউইয়র্ক
টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাব মানা হলে সাত
দিনের মধ্যে গাজা ও লেবাননসহ
সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের আটকে রাখা অন্তত
১ হাজার ২০০ কোটি (১২
বিলিয়ন) ডলারের সম্পদ ফিরিয়ে দেবে, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা
তুলে নেবে এবং তাদের
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।
সাত
দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার চূড়ান্ত
দিনে হরমুজ প্রণালি চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত
করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত আলোচনা অবিলম্বে শুরু হবে, যাকে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতের অন্যতম
প্রধান মূল কারণ হিসেবে
অভিহিত করেছেন।
ইরানের
বর্তমান প্রস্তাবটি পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের প্রায় অনুরূপ হলেও এটি একটি
অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। গত ১৭ জুন
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায়
স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের
সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই
তা ভেস্তে যায়।
ইরানের
এক নিরাপত্তা সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে,
ওয়াশিংটন যদি ইরানের শর্ত
ও প্রতিশ্রুতি মেনে নেয়, তবে
নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জেনেভা
গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতির অধ্যাপক
সাইরাস শায়েঘ আল-জাজিরাকে বলেন,
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত
অবসানের দিকে কোনো উল্লেখযোগ্য
অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আল–জাজিরা