'মক্কা প্রতিরক্ষা জোট'-এর আওতায় রিয়াদকে সহায়তার উপায় পর্যালোচনার লক্ষ্যে শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক প্রধানরা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামরিক পোশাকে সজ্জিত এই তিন কর্মকর্তার ছবি প্রকাশ করে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, বৈঠকটি ঠিক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তা উল্লেখ করেনি।

তবে এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, দেশটির চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু এই বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব সফর করবেন।

হুথি বিদ্রোহী ও ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। হুথিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরেও হামলা চালিয়েছে।

এর আগে ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, মক্কা চুক্তির আওতায় রিয়াদকে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য তিন দেশের সামরিক প্রধানদের মধ্যে একটি বৈঠকের বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ এবং তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিবৃতিটি দেয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে বলা হয়েছে—চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলোর কোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সকল পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিউ ইয়র্কের বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা "পবিত্র শহর মক্কা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা" জানিয়েছেন।

একই সাথে, মন্ত্রীরা "সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা এবং রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের সক্ষমতার প্রশংসা" করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

"তারা জাতিসংঘের সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি আরবের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।" বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এ অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতিসমূহ, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি নৌচলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

এছাড়া, তারা এ অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে যৌথভাবে কাজ করা, উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা এবং সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে উৎসাহ জোগানোর বিষয়ে তাদের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বৈঠকের সময় মন্ত্রীরা মক্কা চুক্তির আওতায় সাধারণ সচিবালয়, বিভিন্ন কমিটি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অগ্রগতি এবং সেগুলোর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির বিষয়টিও পর্যালোচনা করেছেন।

এর আগে ‘দার’ (পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে জানান: “মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (এমজেডিএ)-এর কাঠামোর আওতায় আমরা চুক্তি অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে মতবিনিময় করেছি।”

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের উদ্বোধনী বৈঠকটি ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে ইস্তাম্বুলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কর্মকর্তারা মিলিত হন এবং রিয়াদে অবস্থিত জোটের সচিবালয়ের প্রধান হিসেবে পাকিস্তানকে নির্বাচিত করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদকে এর প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ডন