ইরানের বেশির ভাগ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে ইন্টারনেট বন্ধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর নানা ইন্টারনেট শাটডাউনের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগে কয়েক দিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমে তীব্র হচ্ছিল। তবে দেশের একেবারে ক্ষুদ্র একটি অংশে এখনো বাইরের দুনিয়ায় ছবি ও ভিডিও পাঠানো, এমনকি ফোনকল করাও সম্ভব।
‘ভাহিদ অনলাইন’ নামের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানের দক্ষিণ উপকণ্ঠ কারিজাকে রাস্তায় পড়ে থাকা কয়েকটি মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করা হয়। তার আগের দিন একই চ্যানেলে একটি ভিডিও দেওয়া হয়।
এই ভিডিও ও বার্তাগুলোর কিছু পাঠানো হচ্ছে সেন্সরশিপ এড়িয়ে চলার জন্য তৈরি বিভিন্ন অনলাইন টুলের মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে টেলিগ্রাম প্রক্সি, ‘ডেলটা চ্যাট’ নামে একটি বিকেন্দ্রীভূত মেসেজিং সেবা এবং ‘সেনো’ নামের একটি ব্রাউজার।
এসব তথ্য জানিয়েছেন ইরানি ডিজিটাল অধিকারবিশেষজ্ঞ আমির রাশিদি। তবে এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্টারলিংক টার্মিনাল। হাজার হাজার লো-আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সংযোগ দেয় এই ব্যবস্থা। গত দুই বছরে ব্যাপকভাবে চোরাই পথে এই ব্যবস্থা ইরানে ঢুকেছে। যাঁরা এগুলো ব্যবহার করছেন, তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।
রাশিদির মতে, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৫০ হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল রয়েছে; অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে এই সংখ্যা এক লাখ পর্যন্ত বলা হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের এই সেবা ব্যবহারকারীরা ইরানের ৯ কোটির বেশি মানুষের তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ।
একটি স্টারলিংক টার্মিনাল দিয়ে একাধিক মানুষ, এমনকি পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনও ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারে। তবু দেশজুড়ে মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ কয়েক লাখের বেশি নয় বলে জানিয়েছেন ডাগ ম্যাডোরি। তিনি কেনটিক নামের একটি নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্মের ইন্টারনেট অ্যানালাইসিস পরিচালক।
এই অল্পসংখ্যক ব্যবহারকারীই এখন ইরানের বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে শেষ ও নড়বড়ে সংযোগ ধরে রেখেছেন। ইলেকট্রনিকভাবে মূলত সরকার অনুমোদিত বা ‘হোয়াইটলিস্টেড’ কিছু ব্যবসা ও ব্যক্তির ন্যূনতম যোগাযোগ ছাড়া দেশ থেকে খুব সামান্য তথ্যই বাইরে যাচ্ছে।
ইরানজুড়ে কর্তৃপক্ষ স্টারলিংক টার্মিনাল খুঁজে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, তারা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের জন্য তৈরি যন্ত্র ব্যবহার করে মহল্লাজুড়ে সিগন্যাল জ্যাম করছে এবং ছাদে থাকা স্যাটেলাইট ডিশ শনাক্ত করতে ড্রোন ওড়াচ্ছে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া একটি আইনে ইরানে স্টারলিংক টার্মিনাল রাখা ‘ইসরায়েলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড।
রাশিদির ভাষায়, ‘তারা কার্যত স্টারলিংককে এমনভাবে অপরাধ বানিয়েছে যে আইনে বলা হচ্ছে, স্টারলিংক ব্যবহার মানে ইসরায়েল ও মার্কিন সিআইএর জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করা।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঠিক কতগুলো টার্মিনাল সচল আছে আর কতগুলো জব্দ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
রাশিদির মতে, স্টারলিংক জ্যাম করতে ইরান যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তা ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে ড্রোন জ্যাম করতে ব্যবহৃত প্রযুক্তির মতো সামরিক মানের। এগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও বিদ্যুৎ খরচ বেশি; নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অচল করে দিতে পারে। তবে এগুলো স্থানীয়ভাবে কাজ করে, দেশজুড়ে একসঙ্গে প্রয়োগ করা যায় না।
এখনো যাঁদের কাছে চোরাই পথে আনা স্টারলিংক টার্মিনাল আছে, তাঁরা কোনোভাবে অনলাইনে যুক্ত হতে পারছেন। তবে যেসব এলাকায় জ্যামিং বেশি, সেখানে বার্তা পাঠানো ছাড়া প্রায় কিছুই করা যায় না। প্রযুক্তিতে পারদর্শী ব্যক্তিরা নিজেদের অবস্থান আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করছেন; অন্যরা ধরা পড়া এড়াতে টার্মিনাল এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন।
যদিও আপাতত স্টারলিংক ব্যবহারকারীরা যোগাযোগ করতে পারছেন, তবে ইরান (যদিও তা কঠিন) তাঁদের শনাক্ত করে ধরতে পারে। ইরান সরকার যদি যথেষ্ট চেষ্টা করে, তবে ওই টার্মিনালগুলো যে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে, সেই সিগন্যাল ধরে ব্যবহারকারীদের অবস্থান বের করা সম্ভব। যাঁদের কাছে স্টারলিংক নেই, তাঁদের জন্য রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের সাম্প্রতিক ঘোষণাই ইরানের ভবিষ্যৎ ইন্টারনেটের একটি ঝলক দেখিয়েছে। আইআরআইবি সংবাদ সংস্থা ইরানে এখন থেকে যেসব ইন্টারনেট সাইট পাওয়া যাবে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
এই তালিকায় রয়েছে দেশীয় সার্চ ইঞ্জিন, দেশীয় মানচিত্র ও নেভিগেশন সেবা, দেশীয় মেসেজিং অ্যাপ এবং একটি দেশীয় স্ট্রিমিং সেবাও। এটিকে অনেকে ‘নেটফ্লিক্সের ইরানি সংস্করণ’ বলছেন, যেখানে কেবল সরকার অনুমোদিত ভিডিওই থাকবে। এর অর্থ হতে পারে—ইরানের আগের ইন্টারনেট ব্যবস্থা আর ফিরে না–ও আসতে পারে।
দ্য গার্ডিয়ান , অনুবাদ: প্রথম আলো
২০২৪
সালের আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের
মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন
কেবল একটি দেশের রাজনীতির
মোড়ই ঘুরিয়ে দেয়নি, বরং এটি দক্ষিণ
এশিয়ার একটি অংশের নিরাপত্তা কাঠামোকেও ...
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ,
স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ।তিনি
বলেন, দলমত, ধর্ম ও বর্ণ...
জাতিসংঘের
সাধারণ পরিষদের অধিবেশন প্রতিবছরই আসে। রাষ্ট্রনেতারা নিউইয়র্কে
যান, ভাষণ দেন, দ্বিপক্ষীয়
বৈঠক করেন, কিছু প্রস্তাব পাস
হয়, অনেক প্রতিশ্রুতিও উচ্চারিত
হয়। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১ত...
সৌদি আরবের
কাছে অত্যাধুনিক 'স্টেলথ' (রাডারে সহজে ধরা পড়ে না এমন) যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে এক জটিল পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক
প্রতিরোধ ক্ষমতা ব...
ইরানের
সাথে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ডজন ডজন বিমান—যার মধ্যে অন্তত ৩০টি ‘এমকিউ-৯ রিপার’
ড্রোন হারিয়েছে। এছাড়া ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
বা ধ্বংস হয়েছে।সোম...
গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ
এশিয়ায় তরুণদের নেতৃত্বে ছয়টি সরকারবিরোধী ও
প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাবিরোধী গণ–আন্দোলন হয়েছে।এসব
আন্দোলন এই অঞ্চলের রাজনীতিকে
মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। আন্দোলনগুলোর
মধ্যে অনেক মিল...
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
শেষে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ১৯৭৫ সালেও দেশটি বিশ্বের অন্যতম
প্রধান জাহাজ নির্মাণকারী শক্তি। তবে তখনই তার আধিপত্যে ভাটা শুরু হয়েছিল। শতাব্দীর
শেষ দিকে সর...
সৌদি
আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে
বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তিতে প্রবেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকাকে নতুন সুবিধা দিতে
পারে। তবে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন এটা যুদ্ধবাজ নয়াদি...
কম বয়সী শিশুদের সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে
বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি থাকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে...
বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চার দিনের সরকারি চীন সফরে বাণিজ্য ও সবুজ প্রযুক্তি
বিষয়ক বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রত্যা...