পুরো এশিয়া জুড়ে শাসনব্যবস্থা-বিরোধী বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা এক প্রজন্ম।

‘মিম’ ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ—যারা সবসময় অনলাইনে সক্রিয় থাকে—তারা সরকারের নির্দিষ্ট কিছু নীতি, অপমানজনক আচরণ এবং অবিচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছে। তাদের অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত; সেই ভয়ের বাস্তবতা স্থায়ী রূপ পাওয়ার আগেই তারা নিজেদের ভাগ্য নিজের হাতে তুলে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জাতিসংঘের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট কিশোর ও তরুণ জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় ১০০ কোটি মানুষ—এশিয়ায় বসবাস করে।

‘জেন জি’—যাদের জন্ম মূলত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে—তারা অত্যন্ত সোচ্চার। তাদের ক্ষোভ ও মূল্যবোধগুলো প্রায়শই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দানা বাঁধে, এরপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তা রাজপথের বিক্ষোভে রূপ নেয়, যা অনেক সময় কর্তৃপক্ষকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়।

ভারতে বর্তমানে তরুণদের একটি ভাইরাল আন্দোলনের প্রতীক হলো ‘তেলাপোকা’। মে মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে একটি বৃহত্তর গণতন্ত্রপন্থী সংগ্রামে রূপ নিয়েছে, যা ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় গত বছর শিক্ষার্থীরা জাপানি অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’ থেকে নেওয়া ‘স্ট্র হ্যাটস জলি রজার’ (মাথার খুলি ও আড়াআড়ি হাড়ের চিহ্নযুক্ত পতাকা) প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছিল। অর্থনৈতিক চাপ এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তারা এটি বেছে নিয়েছিল। গত মাসে যখন ভয়াবহ দাবানলের কারণে সৃষ্ট বিষাক্ত বাতাসে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন তরুণদের ক্ষোভ আবারও চরমে পৌঁছায় এবং তারা পুনরায় এই প্রতীকটি সামনে নিয়ে আসে।

প্রতিটি আন্দোলনের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকলেও, সেগুলোর মূলে রয়েছে এক অভিন্ন অসন্তোষ—জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রতি ক্ষোভ, এবং এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা যা তরুণদের কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে পারছে না। বর্তমান কর্মবাজারে তাদের জন্য কেবল স্বল্প বেতনের, অনিশ্চিত বা অস্থায়ী কাজের সুযোগই যেন অবশিষ্ট রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার যোগিয়াকার্তার গাদজাহ মাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ওকি রাহাদিয়ান্তো সুতোপোর মতে, হাস্যরস, মরিয়া মনোভাব এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি ভয়ের অনুপস্থিতি—এই সবকিছু মিলে এমন সব আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে, যা ‘জেন জি’ প্রজন্মকে নিয়ে প্রচলিত ‘উদাসীনতার ধারণা’কে ভেঙে দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা এমন এক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে, যা আগে সেভাবে নজরে আসেনি—আর তা হলো, নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ও সক্রিয় হওয়ার ক্ষমতা।

এই প্রবণতা কেবল এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্যারিস, মিলান এবং লিসবনের ভবনগুলোতেও অস্থিরতার চিহ্ন স্পষ্ট; ইউরোপের তরুণ প্রজন্ম, যারা নিজেদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, তারা এখন প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে রাস্তায় নেমে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতার কারণে আজকের প্রতিবাদগুলো এত দ্রুত বিস্তার লাভ করে যে, অনেক সরকারের পক্ষেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো সম্ভব হয় না। সরকারি কর্মকর্তারা প্রায়শই এই অস্থিরতার জন্য আন্দোলনকারীদের, অভ্যন্তরীণ শত্রুদের (ফিফথ কলামিস্ট) অথবা রাজনীতিতে নতুন আসা ব্যক্তিদের অপরিণত আচরণকে দায়ী করেন এবং এরপর লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস সজ্জিত পুলিশ বাহিনীকে মাঠে নামিয়ে দেন।

তবে ‘জেন জি’ প্রজন্মের প্রতিবাদের শক্তিকে খাটো করে দেখা একটি বড় ভুল—যেমনটা এশিয়ায় সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।

শেখ হাসিনা, যিনি সব মিলিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ শাসন করেছেন, তিনি সবার আগে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে, তাঁর দুর্নীতিপরায়ণ ও লুটপাটমূলক সরকারের বিরুদ্ধে এক গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। পুলিশ এই আন্দোলন দমনের জন্য সহিংস পথ বেছে নিলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

এর এক বছর পর নেপালে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রতিবাদ আন্দোলন ক্ষমতাসীন অভিজাত গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করে। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং আত্মীয়করণের জন্য সমালোচিত এই গোষ্ঠীর সরকারকে শেষ পর্যন্ত একটি সহিংস লড়াইয়ের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর আগে, ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টাও চালিয়েছিল।

মিয়ানমারে, ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদকারীরাই ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে—যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রের আইকন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই তারা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও দূরবর্তী এই প্রতিবাদ আন্দোলনগুলোকে একটি সাধারণ সুতোয় গেঁথে রেখেছে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান মাধ্যম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

শিক্ষার্থী সংগঠক রেজওয়ান আহমেদের মতে, বাংলাদেশের প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকা অবরোধের কথা উল্লেখ করেন, যা পুরো রাজধানী শহরকে অচল করে দিয়েছিল। বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী আহমেদ ফেসবুকে একটি সমন্বয়কারী পেজ পরিচালনা করতেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা যখন ভেঙে পড়ে এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তখন পর্যন্ত ওই পেজটির অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখেরও বেশি।

ফিলিপাইনে, যেখানে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন, সেখানে ‘মিম’ (meme) রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। গত বছর বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি নিয়ে যে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়েছিল, তাতে এই মিমগুলো বড় ভূমিকা রেখেছিল।

মার্ক আনিকাস, ২৯ বছর বয়সী ‘ফিলিপিনো ট্রেন্ডস দ্যাট ম্যাটার’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক পেজের প্রতিষ্ঠাতা ও মিডিয়া পরিচালক। ‘জেন জি’ প্রজন্মের তরুণদের নিয়ে গঠিত এই পেজটির অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ। তারা প্রতিদিন বিভিন্ন সরকারি নীতির ওপর তীক্ষ্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য প্রকাশ করে। আনিকাসের মতে, এখন প্রকৃত ক্ষমতা এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলোর হাতেই নিহিত।

তিনি ‘দিস উইক ইন এশিয়া’-কে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মানুষকে এটা বলে দেওয়া নয় যে তারা কী ভাববে, বরং তাদের চিন্তাভাবনা করতে উৎসাহিত করা।”

এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কি?

‘জেন জি’ বা বর্তমান প্রজন্মের অসন্তোষ নিয়ে এ বছর বিশ্বজুড়ে যে আলোচনা হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে ভারত। সেখানে প্রধান বিচারপতির একটি অবমাননাকর মন্তব্য—যিনি কর্মহীন তরুণদের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ বলে অভিহিত করেছিলেন—প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দেয়, যা থেকে জন্ম নেয় এই বিশেষ আন্দোলনটি।

আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা, রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে—যিনি নিজেও ৩১ বছর বয়সী একজন তরুণ—এক্স প্ল্যাটফর্মে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে উদ্দেশ্য করে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন: “সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তবে কী হবে?”—আর এভাবেই শুরু হয় এই অনলাইন আন্দোলনটি।

এমন একটি দেশে এই মন্তব্যটি যেন বোমা ফাটার মতো প্রভাব ফেলে, যেখানে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৪০ কোটি মানুষ—অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রতি চারজনের একজন—‘জেন জি’ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত।

লক্ষ লক্ষ মানুষ দিপকের এই পোস্টে সাড়া দেন। এর মাধ্যমেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)—একটি অনলাইন আন্দোলন, যার নাম রাখা হয়েছে ভারতের দীর্ঘদিনের শাসক দল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ (বিজেপি)-কে ব্যঙ্গ করে।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আন্দোলনের সদস্যরা রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের হাতে ছিল তেলাপোকার মিম; যেখানে দেখা যায়, তেলাপোকাগুলো সানগ্লাস পরে আছে এবং তাদের কাঁধে জড়ানো ভারতের জাতীয় পতাকা (ত্রিরঙা)।

২৪ বছর বয়সী আয়ুষ ভট্টাচার্য ছিলেন তাদেরই একজন, যারা ৬ জুন যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। যন্তর মন্তর হলো ভারতের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মানমন্দির, যা পার্লামেন্টের খুব কাছেই অবস্থিত। গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত এটি প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

মুম্বাই থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা আয়ুষ বলেন, “তরুণদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা ছিল। দেশের রাজনীতি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের অভাব—উভয়ই এর কারণ।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের বাবা-মায়ের প্রজন্ম সবসময় আমাদের এমন অনুভব করাত যে, রাজনীতি নিয়ে আলোচনার সময় আমরা যথেষ্ট জানি না। কিন্তু প্রধান বিচারপতি যখন ওই মন্তব্য করলেন এবং দিপকে তা নিয়ে টুইট করলেন, তখন সেই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।”

এরপর একের পর এক জোরালো ও বর্ণিল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় পুলিশি দমন-পীড়ন শুরু হলে পুলিশের নিষ্ঠুরতার অভিযোগ ওঠে। জুলাই মাসে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে ধনী শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা সোচ্চার হলে, শেষ পর্যন্ত একজন শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে, এই আন্দোলনটি হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে একটি নতুন প্রচার কর্মসূচি শুরু করে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। তাঁর তত্ত্বাবধানেই সারা দেশের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল—এই অজুহাতে যে, নামগুলো হয়তো নকল অথবা মৃত ব্যক্তিদের।

সমালোচকরা—যাদের মধ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও রয়েছে—বলছেন, এটি গোপনে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তাঁদের মতে, এটি মোদির পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আরেকটি চরম আঘাত। হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা মোদির বিরুদ্ধে বিশ্বের বৃহত্তম এই গণতন্ত্রে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ বারবার উঠেছে।

সিজেপি-এর মুখপাত্র মেহর পাসরিচা এই আন্দোলনকে বিশ্বজুড়ে গত এক দশকে ‘ডানপন্থী সরকারের দিকে ঝুঁকে পড়ার’ প্রবণতার বিপরীতে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে এবং এমন এক অর্থনীতিতে প্রবেশ করেছে যেখানে কোনো কর্মসংস্থান নেই। তাহলে তারা কী করবে?”

১৬ অক্টোবর দিল্লির কেন্দ্রে সিজেপি আয়োজিত এক সমাবেশে ২১ বছর বয়সী রোহিত শর্মা অংশ নেন এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। এটি ছিল তাঁর তৃতীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি।

দিল্লির মহারাজা অগ্রসেন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ছাত্র রোহিত শর্মা বলেন, “এখানে আসার উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্রকে বাঁচানো। আমাদের মতো দেশে ভোটার তালিকায় কারচুপি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়... সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।”

ভারতে প্রতিবাদের মাত্রা বাড়লেও, আপাতত তা মোদি সরকারের অস্তিত্বের জন্য বড় কোনো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশি ছাত্রনেতা আহমেদ বলেন, একটি সুসংহত ও শক্তিশালী ক্ষমতাকে উপড়ে ফেলতে হলে বেশ কিছু পূর্বশর্তের সমন্বয় প্রয়োজন। শেখ হাসিনার পতনের আগে বাংলাদেশ যেন বিপ্লবের বারুদে পরিণত হয়েছিল; বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। এছাড়া, বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বর্জন সরকারের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, “আমাদের মাথায় এটি পরিষ্কার ছিল যে, কেবল মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের মাধ্যমে এ ধরনের স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা সম্ভব নয়।” “মানুষকে প্রস্তুত হতে হবে, সমাজকে প্রস্তুত হতে হবে... ভারতে আমি মোটেও তেমনটা দেখছি না।”

ক্ষোভ তীব্র

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং গিগ কর্মীদের (অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী) প্রতি আচরণের কারণে বারবার তীব্র বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়ে ডেলিভারি কর্মী আফফান কুরনিয়াওয়ান নিহত হন। এই ঘটনাটি সেই সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়; তখন সংসদ সদস্যরা নিজেদের বেতন বাড়িয়েছিলেন, যা নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। বিক্ষোভকারীদের হাতে প্রায়শই ‘ওয়ান পিস’ অ্যানিমের পতাকা দেখা যাচ্ছিল। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই অ্যানিমেটির গল্পে দেখা যায়, জলদস্যুদের একটি দল এক স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে।

গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার বিক্ষোভকারীরা আবারও রাস্তায় নেমে আসেন, তবে এবার তাদের প্রতিবাদের কারণ ছিল ভিন্ন—কালিমান্তানসহ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের কারণে সৃষ্ট শ্বাসরুদ্ধকর দূষণ।

২৮ অক্টোবর জাকার্তা, ইয়োগিয়াকার্তা, সোলো, মালাং, বান্দুং, সুরাবায়া (জাভা দ্বীপ), মাকাস্সার (সুলাওয়েসি দ্বীপ), পালানকারায়া (কালিমান্তানের কেন্দ্রস্থল) এবং সুমাত্রার সুদূর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের বান্দা আচেহ—এই সব জায়গায় একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

মূলত ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের এই বিক্ষোভকারীরা দাবি জানান যে, সরকার যেন এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকে পূর্ণাঙ্গভাবে স্বীকার করে নেয়। তবে তাদের ক্ষোভ কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তারা ব্যাপক দুর্নীতি, বেসামরিক জীবনে সামরিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং সরকারের ব্যয়বহুল ও অপচয়মূলক নীতির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

পালানকারায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের স্টুডেন্ট কাউন্সিলের প্রধান, ২১ বছর বয়সী নাওমি আরতিকা সিমামোরার মতে, “কর্তৃপক্ষ এই পরিবেশগত বিপর্যয়টিকে যেভাবে মোকাবিলা করছে, তাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সদিচ্ছার স্পষ্ট অভাব রয়েছে।” তিনি জাকার্তায় আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে কালিমান্তান থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার (৬২০ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিলেন।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী ইয়োসাফাত মেনতেং। তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য হলো সরকারকে চাপ দেওয়া, যাতে চলমান এই দাবানলকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এমন মর্যাদা দেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তহবিল পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ বছর সুমাত্রা, কালিমন্তান ও পাপুয়ায় প্রায় ২০ লক্ষ হেক্টর (৪৯ লক্ষ একর) বনভূমি ও পিটভূমি পুড়ে গেছে, যার ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়াশা ইন্দোনেশিয়ার বড় একটি অংশ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঢেকে ফেলেছে।

সরকারি মুখপাত্র কুরনিয়া রামাদানা জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতোর প্রশাসন “শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ও অনুধাবন করছে” এবং তা সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত জাতীয় দুর্যোগের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। নাওমি বলেন, “আমাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে।”

ভিন্নমত প্রকাশের সীমাবদ্ধতা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় একটি অংশে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের ধরন অভিন্ন নয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভবও হয়ে ওঠে না। সরকারগুলো ভিন্নমত দমন করতে এবং বিরোধীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্তর্ঘাতবিরোধী আইনের মতো শক্তিশালী হাতিয়ার ব্যবহার করে থাকে।

মালয়েশিয়ায় অনলাইনে সৃষ্ট ক্ষোভ তরুণ বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নামিয়ে এনেছে, কিন্তু জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রজন্মগত বিদ্রোহ গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক সায়াজা ফারহানা মোহাম্মদ শুকরি বলেন, “আমরা শ্রেণিভিত্তিক নয়, বরং এখনো জাতি ও ধর্মভিত্তিক পরিচয়ে বিভক্ত।”

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অভিন্ন উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও মানুষ এখনো এই জাতিগত বা ধর্মীয় আনুগত্য কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি এমন এক “রাজনৈতিক সংস্কৃতির” দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে মানুষকে শ্রদ্ধাশীল—মূলত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন—হতে উৎসাহিত করা হয় এবং নেতারা ভুল করলেও তাঁদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের শিক্ষা দেওয়া হয়।

‘মানদিরি’ নামক একটি সুশীল সমাজ সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডবি চিউ—যা ২০২৪ সালে তরুণদের মধ্যে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক সম্পৃক্ততা জোরদার করার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল—জানান যে, রাজনীতিবিদদের “ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী আচরণ” তরুণ মালয়েশীয়দের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তবে তাদের এই হতাশা মূলত “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডিতেই” সীমাবদ্ধ থেকেছে; বাস্তবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই সামান্য।

চলতি বছরের শুরুর দিকে, তরুণ কর্মীরা রাজধানীর এক সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক প্রধান আজম বাকির গ্রেপ্তারের (মালয় ভাষায় ‘তাংকাপ’) দাবি জানিয়েছিলেন। আজম বাকির বিরুদ্ধে সন্দেহজনকভাবে বিপুল পরিমাণ শেয়ার মালিকানার অভিযোগ রয়েছে, যদিও তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বারবার মালয়েশিয়ায় সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর সীমাবদ্ধতা এবং “শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি কাঠামোগত অবজ্ঞার” বিষয়টি তুলে ধরেছে। তরুণ ভোটারদের জন্য একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রচেষ্টাও খুব একটা সফল হয়নি। তরুণদের কেন্দ্র করে গঠিত ‘মালয়েশিয়ান ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স’ (যা ‘মুদা’ নামে পরিচিত) গত জুলাই মাসে জোহরের নির্বাচনে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, যার সবকটিতেই তারা পরাজিত হয়—এমনকি তাদের দখলে থাকা আসনটিও তারা ধরে রাখতে পারেনি।

তরুণ ভোটারদের জন্য একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রচেষ্টাও খুব একটা সফল হয়নি। তরুণদের কেন্দ্র করে গঠিত ‘মালয়েশিয়ান ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স’ (যা ‘মুদা’ নামে পরিচিত) গত জুলাই মাসে জোহরের নির্বাচনে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, যার সবকটিতেই তারা পরাজিত হয়—এমনকি তাদের দখলে থাকা আসনটিও তারা ধরে রাখতে পারেনি।

প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ নিয়মিতভাবে দমন করা হয় এবং তা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। ২০২০-২১ সালে সামরিক-সমর্থিত শাসনের বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ব্যাপক বিক্ষোভ ক্ষমতার এমন সব ধারণাকে—যার ওপর আগে কোনো প্রশ্ন তোলা যেত না—সর্বজনীন বিতর্কের আওতায় নিয়ে এসেছিল; এর মধ্যে রাজতন্ত্রের ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে শাসকগোষ্ঠী তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে—অনেক তরুণ প্রতিবাদী নেতাকে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক সমীকরণ এমনভাবে বদলে দেয়, যাতে তাদের নিজেদের স্বার্থই সুরক্ষিত থাকে।

এর মধ্যে ছিল আমূল সংস্কারবাদী ‘ফিউচার ফরোয়ার্ড’পার্টিকে বিলুপ্ত করা এবং এর নেতাদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে দলটির অত্যন্ত জনপ্রিয় উত্তরসূরি ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ পার্টির নেতৃত্বকেও রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। পরিবর্তনের গতি থমকে যাওয়ায় থাইল্যান্ডের রক্ষণশীলরা পুনরায় তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এই অভিজাত শ্রেণির ক্ষমতার ভিতকে টিকিয়ে রেখেছেন।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখনো এই অঞ্চলের তরুণদের নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেয় এবং সংগঠিত হওয়ার পথ তৈরি করে দেয়—যার ফলাফল প্রায়শই অপ্রত্যাশিত হতে পারে।

ফিলিপাইনে ‘মিম’ প্রচারণার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। ইউনিভার্সিটি অফ দ্য ফিলিপাইনস দিলিমানের মিডিয়া ও যোগাযোগ বিষয়ের প্রভাষক পেত্রোনিলো ফিগুয়েরোয়া বলেন, “রাজনৈতিক মিমগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের সুনির্দিষ্ট ক্ষোভকে তুলে ধরে।”

ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক পেজ ‘এফটিটিএম’ -এর প্রতিষ্ঠাতা আনিকাস জানান, তারা প্রায়শই হাস্যরসের আশ্রয় নেন, যাতে “জটিল বা অস্বস্তিকর বিষয়গুলোকে” তাদের লক্ষ লক্ষ অনুসারীর কাছে সহজবোধ্য করে তোলা যায়।

তিনি জানান, তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল গত বছরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প সংক্রান্ত দুর্নীতি কেলেঙ্কারি নিয়ে করা পোস্টগুলো। ওই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বা অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোটি কোটি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে, যা ব্যাপক জনবিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।

এই পেজটিকে আইনি জটিলতারও সম্মুখীন হতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালুকান শহরের এক কর্মকর্তার আনা মানহানির অভিযোগ—যা একটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন সংক্রান্ত ভাইরাল পোস্টকে কেন্দ্র করে হয়েছিল। এছাড়া, অন্য একটি পোস্টকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ ও তথ্যগতভাবে ভুল’ দাবি করে এক প্রাদেশিক গভর্নর তাদের তলব (সাবপিনা) করেছিলেন।

তবুও আনিকাস জানান, সাধারণ মানুষ তাদের পাশে অটল ছিল। তিনি বলেন, “মানুষ, বিশেষ করে ‘জেন জি’ প্রজন্মের তরুণরা আমাদের ওপর আস্থা রাখে। তারা বলে, ‘আপনাদের কারণেই আমি এখন এসব বিষয়ে সম্পৃক্ত হতে শুরু করেছি’।”

এই সমর্থন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফিলিপাইনের নির্বাচন কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, সেই সময়ে মোট ফিলিপিনো ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হবে ‘জেন জি’ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত।

তবে ফিগুয়েরোয়া সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “‘জেন জি’ প্রজন্ম কোনো একক বা অভিন্ন গোষ্ঠী নয়। তাই তাদের সমর্থন অর্জন করতে হলে কেবল একটি বার্তা যথেষ্ট হবে না।”

লেখক: এইডান জোন্স, বিমান মুখার্জি, জুনায়েদ কাথজু, স্যাম বেলট্রান ও ইমান মুত্তাকিন ইউসুফ

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ইংরেজি থেকে অনুবাদ