২০২৬ সালে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে আব্দুল আল-সায়েদের জয় কর্ণাটকের একটি ছোট গ্রামকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কারণ তাঁর স্ত্রী ডা. সারা জুকাকু, যাঁর পরিবারের শিকড় রয়েছে ম্যাঙ্গালুরু থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভাটকালে।
ইউএসএ
টুডে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুকাকুর সঙ্গে
আব্দুল আল-সায়েদের পরিচয় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়।
শিক্ষার্থীদের
প্রকাশনা ‘দ্য মিশিগান ডেইলি’-র একটি নিবন্ধে
বলা হয়েছে, আল-সায়েদ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম
বর্ষের ছাত্র ছিলেন, তখন তাঁদের বাগদান
হয় এবং ২০০৬ সালে
তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ বছর
আল-সায়েদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত
ছিলেন।
নির্বাচনী
প্রচারণার একটি সভায় তিনি
নিজেদের সম্পর্কের বিষয়ে
কিছুটা আলোকপাত করেন। ডা. জুকাকু বলেন,
"আমি ছাড়া আর কেউ
তাঁকে বলে দেয় না
যে কী করতে হবে।"
তাঁর
বাবা জুকাকু তায়েব একজন নেফ্রোলজিস্ট (কিডনি
রোগ বিশেষজ্ঞ)। তিনি ভাটকালে
বেড়ে ওঠেন এবং এমবিবিএস
সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে
চলে যান। তাঁর দাদা
জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী
ও শিক্ষাবিদ। তিনি ছিলেন তৎকালীন জামখাণ্ডি রাজ্যের (বর্তমানে কর্ণাটকের বাগলকোট জেলায় অবস্থিত) মুখ্যমন্ত্রী বি. ডি. জাট্টির
সরকারে অর্থ উপমন্ত্রী।
ডা.
সারা মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই
বেড়ে ওঠেন। তিনি ২০১৫ সালে
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভ্যাজেলোস কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস
অ্যান্ড সার্জনস’ থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে
ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
বাগলকোটের
বাসিন্দারা আব্দুল আল-সায়েদকে অভিনন্দন
জানিয়েছেন। তাঁর এই জয়
এমন এক সময়ে এল,
যখন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ব্লু-নামি’ (ডেমোক্র্যাটদের
বড় ধরনের বিজয়) দেখা গেছে, যা
অনেক রিপাবলিকান-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যকে (যাদের ‘রুবি রেড’ স্টেট
বলা হয়) প্লাবিত করেছে।
স্থানীয়
বাসিন্দাদের একজন ‘আমেরিকান বাজার’-কে বলেন, "আমরা
তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। এটি আমাদের
সবার জন্যই গর্বের মুহূর্ত যে, জুকাকু পরিবারের
একজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন।"
এই দম্পতির বিয়ের পর দুই দশকেরও
বেশি সময় পার হয়ে
গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে
আব্দুল আল-সায়েদ দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের পরিচিতি নিয়ে রসিকতা করে
অনেক কথা বলেছেন।
একটি
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "দেখুন,
২০ বছর ধরে আমি
একটি দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। এখন আমি পুরোপুরি
এর অংশ হয়ে গেছি...
সত্যি বলতে, আমার মধ্যে হয়তো
আরব সত্তার চেয়ে ভারতীয় সত্তাই
বেশি।"
সাংবাদিকদের
সঙ্গে অন্য এক আলাপচারিতায়
আল-সায়েদ জানান, তিনি সবসময় 'দেশি'
নারীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত—"আমার দুই 'দেশি'
মেয়ে এবং একজন 'দেশি'
স্ত্রী রয়েছে।" এই দম্পতির দুই
মেয়ের নাম এমালি ও
সেরিন।
ইউএসএ
টুডে