বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে সমর্থন জানাল ককরোচেরা। আগামী রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’র। ককরোচদের নেতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, ওই কর্মসূচিকে সিজেপি সমর্থন করছে। “জ্ঞানুকে যেতেই হবে… দেশ সবার আগে,” বলেন তিনি।
সিজেপি
এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী জোট— উভয়েই মুখ্য
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সমান্তরাল বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। মোটের উপর একই দাবিতে
আন্দোলন চললেও শুরুতে ককরোচদের থেকে কিছুটা দূরত্বই
রাখছিল কংগ্রেস। তবে সম্প্রতি সেই
দূরত্ব কিছুটা কেটেছে বলেই মত অনেকের।
সিজেপির ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে
যোগ দিতে গিয়ে আটকও
হয়েছেন বিরোধী শিবিরের অনেক নেতানেত্রীই। সেই
তালিকায় ছিলেন চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী—
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার এবং অরবিন্দ কেজরীবাল।
তবে সে দিনের কর্মসূচিতে
রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেস নেতৃত্বকে
দেখা যায়নি।
তবে
দুই ককরোচ নেতা সৌরভ দাস
এবং আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির পর প্রকাশ্যে সিজেপির
পাশে দাঁড়ান রাহুল। সিজেপি-কে সমর্থনের বার্তা
দিয়ে লেখেন, “যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়।”
এ বার বিরোধী জোট
‘ইন্ডিয়া’-কেও প্রকাশ্যে সমর্থনের
বার্তা দিল ককরোচেরা। তবে
রবিবার রামলীলা ময়দানের সমাবেশে বিরোধী জোটের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে
ককরোচ নেতৃত্বও থাকবেন কি না, তা
এখনও স্পষ্ট নয়। দিপকেও এ
বিষয়ে কিছু খোলসা করেননি
তাঁর সমাজমাধ্যম পোস্টে।
‘ইন্ডিয়া’কে সমর্থনের বার্তা
দিয়ে সিজেপি-র একটি বিবৃতিও
সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। বিবৃতিতে সিজেপির বক্তব্য, “আমাদের সংবিধান প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ভোটাধিকার দিয়েছে। কোনো যোগ্য নাগরিক
যেন এই অধিকার থেকে
বঞ্চিত না হন, তা
নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
তাই দেশে অবাধ ও
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে যে সব
সংগঠন লড়াই করছে, সিজেপি
তাদের প্রত্যেককে সমর্থন জানাবে।”
মুখ্য
নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশের
ইস্তফার দাবিও ফের একবার স্পষ্ট
করেছে তারা। সিজেপি বিবৃতিতে বলেছে, “গণতন্ত্রের মূল নীতি হল—
দেশের ভোটারেরাই সরকার বাছবেন। সরকার দেশের ভোটার বাছবে না। কিন্তু এসআইআর
প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মৌলিক নীতিটিকেই
ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। দেশে
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের
জন্য যে ভরসা দরকার
হয়, তা আর জ্ঞানেশ
কুমারের উপর রাখা যাচ্ছে
না। তাই কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা
ফেরাতে তাঁকে পদত্যাগ করতেই হবে।”
আনন্দবাজার