শুক্রবার বিকেল ৫টায় দিল্লিতে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন অভিজীৎ দিপকে। সেখানে যোগ দিতে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে বাড়ি থেকে আটক করা হল তাকে। চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার আটক হলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান। যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হল নেহা বোরাকেও। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, দিল্লির কনট প্লেসের আশপাশে জড়ো হয়েছেন প্রায় ২০০০ সিজেপি কর্মী-সমর্থক।
গত শনিবার যন্তর মন্তরে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে
আটক হন দিপকে। দেশের
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সেই কর্মসূচির ডাক
দিয়েছিল সিজেপি। মুম্বই থেকে দিল্লিতে বিমান
নামতেই তার ভিতর থেকে
আটক করা হয় দিপকেকে।
শুক্রবার ফের তাঁকে আটক
করা হল। দিপকেদের পাশে
দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আশুতোষ
রাঙ্কা, সৌরভ দাসদের গ্রেফতারির
প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের
সেন্ট্রাল পার্কে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দেন দিপকে।
কিন্তু তার আগেই ককরোচ
জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা প্রধানের
দিল্লির আবাসন ঘিরে ফেলে বিশাল
পুলিশ বাহিনী।
এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ভিডিয়ো
সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দিপকের দাবি,
তাঁকে তেরঙা-কর্মসূচি বাতিল করতে বলা হয়।
ভিডিয়োতে দেখা যায়, সোফায়
বসে দিপকে ওই পুলিশ আধিকারিককে
প্রশ্ন করছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আপনি
কী ধরনের অভিযোগ এনেছেন?’’
বৃহস্পতিবার
ককরোচ বাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিল্লি পুলিশ
বলেছিল, ১৬৩ ধারা অমান্য
করে কনট প্লেস চত্বরে
চার বা তার বেশি
ব্যক্তি জমায়েত হলে কড়া পদক্ষেপ
করা হবে। কিন্তু শুক্রবার
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিয়ন্ত্রিত দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ১১ জনকে জাতীয়
পতাকা নিয়ে কনট প্লেসে
যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ছাড়ের তালিকায় দিপকে রয়েছেন কি না, স্পষ্ট
নয়।
ককরোচদের
কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের
দাবিতে দিল্লির একটি ব্যবসায়ী সংগঠন
সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েও অবশ্য বিফল হয়েছে। শীর্ষ
আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ
করতে রাজি হয়নি। প্রধান
বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য
বাগচীর বেঞ্চ বলেছে, ‘‘আমরা আশা করছি,
শুভবুদ্ধির জয় হবে।’’ দিল্লির
ব্যবসায়ীদের জীবিকার অধিকার রক্ষার আর্জি জানিয়ে দায়ের করা ওই মামলার
শুনানি দশেরার পরে আগামী ২৬
বা ২৭ অক্টোবর হবে
বলে জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
প্রসঙ্গত,
দিল্লি পুলিশ বৃহস্পতিবারই ককরোচদের কর্মসূচি ঠেকাতে দিল্লির একাধিক এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা (চার
বা তার বেশি মানুষের
জমায়েত নিষিদ্ধ) জারি করেছে। পাশাপাশি,
আগামী দু’দিনের জন্য
সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ করার কথা
ঘোষণা করেছে ‘নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল
কাউন্সিল’। তা সত্ত্বেও
বৃহস্পতিবারের পরে শুক্রবার দিল্লি
পুলিশ ফের ‘তেরঙা ওড়াও’
কর্মসূচি বাতিল করার আবেদন জানিয়েছে
ককরোচ নেতৃত্বের কাছে। দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানেও শুক্রবার
রাঙ্কা-সৌরভদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের
ডাক দেওয়া হয়েছে। চেন্নাইয়ের রাজরথিনম স্টেডিয়ামে ‘ভোটচুরি’তে অভিযুক্ত মুখ্য
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং এসআইআর বাতিলের
দাবিতে শুরু হয়েছে সমাবেশ।
বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক
সংগঠনের সেই সমাবেশে হাজির
হয়েছেন ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিনের বোন তথা সাংসদ
কানিমোঝি।