তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বুধবার (১২ আগস্ট) আশা প্রকাশ করে বলেছেন বলেছেন, বিশ্বের সংঘাত-বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোকে স্থিতিশীল করতে গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আরও দেশ যোগ দেবে।
তুরস্ক,
সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের
মধ্যে ১০ আগস্ট এই চুক্তি সই হয়। এমন এক সময়
এই চুক্তি সই হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পরিণতি
সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্য হিমশিম খাচ্ছে। এই যুদ্ধ আঞ্চলিক
শক্তিগুলোকে জড়িয়ে ফেলেছে এবং হরমুজ প্রণালী
ও লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে নৌচলাচল
প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।
তুর্কি
নেতা লন্ডন-ভিত্তিক দৈনিক আল-শারক আল-আওসাতকে বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের
দৃষ্টিভঙ্গি শুধু এই তিনটি
দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমরা
চাই এটি আরও প্রসারিত
হোক এবং হয়তো একদিন
এই অঞ্চলের সব দেশ এর
ছত্রছায়ায় একত্রিত হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি
তৈরি হবে।”
এর আগে শনিবার
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান
ফিদান বলেন, তুরস্ক আশা করছে “পরবর্তী
পর্যায়ে” মিশর এই চুক্তিতে যোগ দেবে। তিনি
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে বলেন, এর পথে কেবল
“কিছু কারিগরি সমস্যা” রয়েছে।
ফিদান দুই দিনের
সফরে বৃহস্পতিবার কায়রো
যান। তবে তার মন্তব্যের বিষয়ে
মিশর এখনো কোন বক্তব্য দেয়নি।
আঙ্কারার
সাথে কায়রোর শক্তিশালী সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। এই জোটে ন্যাটো-ধাঁচের একটি ধারা রয়েছে,
যেখানে বলা হয়েছে যে
একজনের ওপর যেকোনো আক্রমণকে
সকলের ওপর আক্রমণ হিসেবে
গণ্য করা হবে।
পাঁচ
মাসব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এই
অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে ওলটপালট করে দিয়েছে এবং
মার্কিন সামরিক আধিপত্যের ওপর ভিত্তি করে
গড়ে ওঠা কয়েক দশকের
প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে
বাধ্য করেছে।
এরদোয়ান
বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের “নতুন পরিস্থিতি” থেকে
এই চুক্তিটি উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক শক্তিগুলো তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য
বৃহত্তর দায়িত্ব নিতে চাইছে।
তিনি
বলেন, “আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্বারাই হওয়া উচিত এবং এই
পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা মনে করি
যে আমরা সেই লক্ষ্য
অর্জনের দিকে প্রথম পদক্ষেপ
নিয়েছি।”
তিনি
সৌদি মালিকানাধীন একটি সংবাদপত্রকে বলেন,
“আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান অবশ্যই বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া
কোনো সূত্রের মাধ্যমে করতে হবে না।
আমরা খুব ভালো করেই
জানি যে বিদেশ থেকে
আমদানি করা সমাধান কেবল
বিপর্যয়ই ডেকে আনে।”
এরদোয়ানের
মতে, এই চুক্তি ইসরায়েলের
আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি
প্রধান মিত্রকে একটি বিকল্প নিরাপত্তা
কাঠামোতে একীভূত করেছে, যার লক্ষ্য নিরাপত্তা
সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং একই
সাথে “প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প উন্নয়নের”
পথ খুলে দেওয়া।
যুদ্ধ
শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি
আরব তুরস্কের আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে,
যার সাথে পূর্বে তাদের
সম্পর্ক ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। এরদোয়ান
বলেছেন যে আঙ্কারা ও
রিয়াদ “দুই দেশের মধ্যকার
সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে
উন্নীত করার পদক্ষেপ নেবে”,
তবে তিনি এ বিষয়ে
বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এএফপি