যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় পরিসরে সামরিক হামলা শুরু করলে আরও ব্যাপক ও কঠোর পাল্টাজবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় মনে করছেন, এ উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এখন এ ধারণা জোরালো হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অভিযান শুরু করলে এবার আগের চেয়ে কঠোর জবাব দিতে হবে। তবে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তেহরান।

আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি এবং ইরানের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডাররা সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার বাইরেও যেসব দেশ মার্কিন সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে, সেসব দেশে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কিছু স্থানও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশে ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ইরান কী ধরনের জবাব দেবে এবং কখন দেবে, তা নিয়ে আলোচনা করছেন সামরিক কমান্ডার ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দুই পক্ষের কেউই আপস করতে আগ্রহী—এমন লক্ষণ না থাকায় ওই পরিকল্পনার কাজ আরও জোরদার হয়েছে।

গত সাত মাসের সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে এসব আলোচনা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরান সংঘাত শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিতে ৪০ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে এরপরও বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষ চলেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবেন, নাকি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মতো সীমিত আকারের আক্রমণ চালাবেন, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে তেহরান।

আজিজি বলেন, ‘তবে তাদের (ইরানের) মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে, তারা প্রতীকী কোনো পদক্ষেপের জবাবে প্রতীকী প্রতিক্রিয়া জানাতে চায় না; বরং প্রতিপক্ষকে নিরস্ত রাখতে নিজেদের সক্ষমতা আবার প্রতিষ্ঠার আশায় সংঘাত আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ট্রাম্পের জন্য কী ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা-ও বিবেচনা করছে তেহরান। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে এ যুদ্ধ জনপ্রিয় নয়। এদিকে মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির উচ্চমূল্যও দেশটিতে উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।

ইরানের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় পরিসরে হামলা চালালে ইরানকে সহায়তা করার জন্য লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে তেহরান।

ওই কর্মকর্তারা জানান, নির্দেশনায় হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত বিস্তৃত সমন্বিত পাল্টাজবাবের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রয়টার্স