পৃথিবীর কক্ষপথে ভারত তার প্রথম বেসরকারি খাতের রকেট উৎক্ষেপনে সফল হয়েছে। এটি বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে একটি প্রধান শক্তি হওয়ার পথে নয়াদিল্লির উচ্চাকাঙ্ক্ষায়  মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

তিন-পর্যায়ের ২২-মিটার দীর্ঘ বিক্রম-১ নামের রকেটটি শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি গ্রাহকের পেলোডগুলোকে ৪৫০ কিলোমিটার (২৮০ মাইল) নিম্ন-ভূ-কক্ষপথে স্থাপন করে। এর মাধ্যমে ভারত হলো বেসরকারি উদ্যোগে রকেট উৎক্ষেপণ সক্ষমতা অর্জনকারী তৃতীয় দেশ।

বিক্রম- ৩৫০ কেজি (৭৭২ পাউন্ড) পর্যন্ত পেলোড বহন করতে পারে এবং এটি রোবোটিক বাহু দ্বারা সজ্জিত, যা মহাকাশের আবর্জনা পরিষ্কার করতে সক্ষম।

এটি পরীক্ষামূলক সরঞ্জাম, পরীক্ষাগারে তৈরি একটি হীরা এবং ভারতের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির স্মরণে একটি ক্ষুদ্র ১৮-ক্যারেট সোনার ভাস্কর্যও বহন করেছে।

নির্মাতা স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের মতে, এই পরীক্ষা উড্ডয়নকালে রকেটটির প্রোপালশন, অ্যাভিওনিক্স, টেলিমেট্রি, গাইডেন্স, নেভিগেশন এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কাইরুট হলো নতুন প্রজন্মের ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলোর মধ্যে অন্যতম। চলতি এই বছরের শুরুতে এটি দেশের প্রথম মহাকাশ-খাতের সংস্থা হিসেবে বিলিয়ন ডলার মূল্যমানে পৌঁছায়।

স্কাইরুট এক্স- একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সফল অভিযানটি উদযাপন করেছে। এতে বলা হয়েছে: “হ্যালো স্পেস, আমরা পৌঁছে গেছি!”

বিক্রম- হলো ২০২২ সালে স্কাইরুটের বিক্রম-এস অভিযানের একটি উন্নত সংস্করণ। ওই সাব-অরবিটাল ফ্লাইট মহাকাশে পৌঁছালেও কক্ষপথে কোনো পেলোড স্থাপন করতে পারেনি।

সংস্থাটি নিয়মিত বাণিজ্যিক মিশন শুরু করার আগে আরও পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পরিকল্পনা করছে। এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান বেসরকারি সরকারি মহাকাশ কর্মসূচির জন্য আরেকটি মাইলফলক।

এএফপি রয়টার্স