নিজেদের জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দেওয়ার পর ইরানের সঙ্গে সব ধরণের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সংযুক্ত আরব
আমিরাতে কিছুটা শান্ত পরিস্থিতির মধ্যে এ ঘোষণা এলো। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের শুরুর দিকে
সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হওয়ার পর মে মাস থেকে দেশটিকে লক্ষ্য করে ইরান আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র
ছোড়েনি। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সমুদ্রে নিজেদের তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরান বারবার
লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে অভিযোগ করেছে আবুধাবি।
সংযুক্ত আরব
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ পরিচালক আফরা আল হামেলি বলেন, ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা
বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য,
বাণিজ্যিক লেনদেন এবং আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।’
সংযুক্ত আরব
আমিরাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইরানি নাগরিক বসবাস করেন। যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার
আওতায় থাকা ইরানের সঙ্গে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল।
উপসাগরের দুই
প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক
রয়েছে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বাণিজ্যপথ ও পারিবারিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কয়েক
শত বছরের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
মঙ্গলবারের
ঘোষণা ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বশেষ পদক্ষেপ। যুদ্ধ শুরুর দিকে দেশটি
ইরান থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়। পরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্কুল
ও একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়।
ওই প্রতিষ্ঠানের
তিন কর্মী এএফপিকে জানান, মার্চে যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন দুবাইয়ে ইরান সরকারের সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট একটি হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে কয়েকটি স্কুল ও একটি কমিউনিটি
সেন্টারও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তৎকালীন এক
আমিরাতি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘ইরানি সরকার ও আইআরজিসির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কিছু
প্রতিষ্ঠান আমিরাতের আইন লঙ্ঘন করায় লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় সেগুলো বন্ধ করা
হবে।’
নৌ-চলাচল
মঙ্গলবার আবুধাবি
অভিযোগ করে, ইরান দেশটির দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। মে মাসের পর এটি
ছিল এ ধরণের প্রথম হামলা।
পরে সংযুক্ত
আরব আমিরাত জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
তবে ইরান আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা অস্বীকার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আমিরাতের মন্ত্রণালয় জানায়, ‘আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইরান থেকে দেশটির দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। প্রথমটি দেশের
আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং দ্বিতীয়টি আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে পতিত হয়।’
পরে প্রকাশিত
দ্বিতীয় বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি ‘সমুদ্রপথে নৌ চলাচলকে লক্ষ্য করে
ছোড়া হয়েছিল এবং সাগরে পতিত হয়।’
‘ইরান আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে’Ñ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমন দাবি ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’
করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি । তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি
আঞ্চলিক আস্থা ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর।
বাসিন্দাদের
‘সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করে ফোনে বার্তা পাঠানোর
প্রায় দুই ঘণ্টা পর আমিরাতের প্রথম বিবৃতিটি আসে।
জুনে একটি মিথ্যা
সতর্কবার্তা এবং জুলাইয়ে এমন একটি হামলার সতর্কবার্তা জারির পর এটি ছিল এ ধরণের প্রথম
সতর্কতা। জুলাইয়ের ওই হামলা শেষ পর্যন্ত আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হানেনি।
এর আগে সর্বশেষ
ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি হয়েছিল মে মাসের শুরুতে।
তবে গত কয়েক
সপ্তাহে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডিএনওসির তেলবাহী জাহাজগুলো
বারবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ছিল সংযুক্ত
আরব আমিরাত। দেশটিকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছিল, যা
ওই অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি।
জুনে ইরান ও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো
হামলার খবর দেয়নি। পরে ওই সমঝোতা ভেঙে যায়। অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো আমিরাত তখন
হামলার শিকার হয়নি।
এএফপি, দুবাই