পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ বন্দুক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১- দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা তথ্য জানিয়েছেন। সেখানে এখনো লড়াই চলছে।

শুক্রবার পুলিশ সদস্য তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যখন একটি মসজিদে জুমার নামাজ পড়ছিলেন তখন এক হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে 'ওল্ড পুলিশ লাইনস' কমপ্লেক্সে ঢুকে পড়ে। একই সময়ে বন্দুকধারীরা ওই চত্বরে হামলা চালায়।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে এই পুলিশ কমপ্লেক্সটি জেলা-পর্যায়ের পুলিশ সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করে। এখানে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং পুলিশ ইউনিটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, "জঙ্গি হামলা আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য।"

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, "কোহাট পুলিশ কমপ্লেক্সের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অংশে এখনো কয়েকজন জঙ্গি অবস্থান করছে।"

তিনি আরও বলেন, "গত (শুক্রবার) রাত থেকেই তাদের সঙ্গে গোলাগুলি চলছে। তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো অস্পষ্ট।"

শুক্রবার গভীর রাতে কোহাট জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেনযাদের অধিকাংশই পুলিশ সদস্যএবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পাকিস্তানি তালিবান নামে পরিচিত তেহরিক--তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)—এর সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী 'ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান' এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

হামলার পরবর্তী ছবিতে দেখা যায়, ইট-পাথরের স্তূপ বিধ্বস্ত দেয়ালের পাশে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছেন এবং অ্যাসল্ট রাইফেলধারী সৈন্যরা কমপ্লেক্সটি পাহারা দিচ্ছেন। পুলিশ চত্বরের কাছে রাস্তায় বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

এর আগের দিনই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে ছয়জন সৈন্য নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে টিটিপির সদস্য বলে সন্দেহভাজন ১০ জঙ্গিকে হত্যা করেছে।

পাকিস্তানেবিশেষ করে এই প্রদেশ দক্ষিণের সীমান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানেহামলা বেড়ে যাওয়ার জন্য আফগানিস্তান থেকে ছড়িয়ে পড়া জঙ্গিবাদকে দায়ী করছে পাকিস্তান; তবে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার ঘটনায় আফগান সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এই অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য সশস্ত্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে; এর জেরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে থাকা জঙ্গিদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে।

কাবুলের তালেবান সরকার জাতিসংঘ জানিয়েছে যে, জুন মাসে পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই হামলার নিন্দা জানান এবং বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় "গভীর দুঃখ অনুশোচনা" প্রকাশ করেন।

তিনি আহতদের "সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা" প্রদানের নির্দেশ দেন এবং এই হামলার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি হতাহতের ঘটনায় "দুঃখ" প্রকাশ করেন এবং বিস্ফোরণে আহতদের "দ্রুত আরোগ্য কামনা" করেন।

তিনি বলেন, "জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে 'ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ' (টিটিপি গোষ্ঠীকে বোঝাতে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা) এবং বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা অপরিহার্য।"

রয়টার্স, এএফপি