ইরানের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এখন গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কংগ্রেসে জমা
দেওয়া এ ধরনের প্রথম বাধ্যতামূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন
পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (ওইএফ)-তে যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ৩৩
দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ব্যবহৃত গোলাবারুদের পেছনেই খরচ হয়েছে
২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত
মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ দ্রুত পুনরায় সরবরাহের ক্ষেত্রে
দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পে বিভিন্ন উৎপাদন ও সরবরাহজনিত বাধাও প্রকাশ পেয়েছে।
যুদ্ধে মার্কিন
সামরিক বহরের ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, চারটি এফ-১৫
যুদ্ধবিমান ধ্বংস, একটি এফ-৩৫ ক্ষতিগ্রস্ত, সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত
এবং সর্বোচ্চ ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে
ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাচ্ছে—এমন
উদ্বেগ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার উড়িয়ে দিয়েছেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও
তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘সীমাহীন’ গোলাবারুদ রয়েছে।
সোমবার নিজের
ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আবারও ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের যেকোনো
সময়ের তুলনায় এখন ‘আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক অস্ত্র’ বেশি উৎপাদন করছে।
এর আগে সিএনএন
জানিয়েছিল, দূরপাল্লার নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠেকানোর
ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের থাড ইন্টারসেপ্টরের মজুদের ‘প্রায় ৮০ শতাংশ’
ব্যবহার করে ফেলেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল
কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র
১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই মাত্রার ব্যাপক
আকারের হামলা আর চালানো হয়নি।
প্রতিবেদনে
আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত,
সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
বা ধ্বংস হয়েছে।
তবে এসব স্থাপনা
পুনর্নির্মাণের ব্যয় প্রতিবেদনের মোট হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। কারণ, সব ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ
করা হবে কি না এবং এর ব্যয় শেষ পর্যন্ত কে বহন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এএফপি