উদ্যোগ শুরু হয়েছিল গত মাসেই। এবার গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির যৌথমঞ্চ ‘স্টিয়ারিং কাউন্সিল ফর দ্য এমার্জেন্স অফ আ ফেডারেল ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন’ (এসসিইএফ)-এর সঙ্গে শুরু হল আলোচনা। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সু চির সমর্থক স্বঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ (এনইউজি)-র নেতৃত্বাধীন ওই যৌথমঞ্চের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনাপর্ব ছিল ইতিবাচক।
প্রকাশিত
খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সমর্থিত নির্বাচিত সরকারের প্রধান তথা
প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের
সম্মতিতে জুলাই মাসে থাইল্যান্ড এবং
ফিলিপিন্সের বিদেশমন্ত্রী প্রাথমিক ভাবে এসসিইএফ নেতৃত্বের
সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। এর পরে চলতি
সপ্তাহের গোড়ায় ব্যাংককে ফের হয়েছে বৈঠক।
তাতে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজ়েশন, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট
এবং কারেনি ন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ পার্টির মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির
প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে
জান্তা সমর্থিত সরকারের উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে
সরে এসে বিদ্রোহীদের যৌথমঞ্চ
আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও বিভিন্ন জনজাতির
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিকে ‘অভিন্ন
কর্মসূচি’র অন্তর্ভুক্ত করতে
সম্মত হয়েছেন। এসসিইএফ বুধবার জানিয়েছে, তারা ‘আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান’ চায়।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে ব্যাংককে
গিয়েছেন হ্লাইং স্বয়ং। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সেনা
অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে
ঘরোয়া হিংসায় ১ লক্ষেরও বেশি
মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর
থেকে মিয়ানমারের তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠী
মিলে নতুন জোট ‘থ্রি
ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স’ গড়ে সামরিক জান্তার
বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল। সেই
অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন
১০২৭’। ‘তাঙ ন্যাশনাল
লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ) এবং ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল
ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি’ (এমএনডিএএ)-র পাশাপাশি সেই
গোষ্ঠীতে ছিল সে দেশের
সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। পরে অন্য কয়েকটি
গোষ্ঠীও সেই শিবিরে যোগ
দিয়েছিল। পরবর্তীকালে চিনের মধ্যস্থতায় এমএনডিএএ এবং টিএনএলএ সংঘর্ষবিরতি
ঘোষণা করেছিল।
যদিও
আরাকান আর্মি এবং পরবর্তী সময়
জান্তা-বিরোধী যুদ্ধে শামিল হওয়া ‘চিন ন্যাশনাল আর্মি’
(সিএনএ) এবং চায়নাল্যান্ড ডিফেন্স
ফোর্স (সিডিএফ), ‘কাচিন লিবারেশন ডিফেন্স ফোর্স’ (কেএলডিএফ) এবং সু চির
সমর্থক স্বঘোষিত সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’-এর সশস্ত্র বাহিনী
‘পিপল্স ডিফেন্স ফোর্স’
(পিডিএফ)-ও এখনও লড়াই
থেকে সরে আসার কোনও
আনুষ্ঠানিক বার্তা দেয়নি। শান প্রদেশে সক্রিয়
বিরোধী রাজনৈতিক দল ‘শান স্টেট
প্রোগ্রেস পার্টি’ এবং তাদের সশস্ত্র
শাখা ‘শান স্টেট আর্মি’ও লড়াই চালিয়ে
যেতে চায় বলে সেনা
অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সু চির সমর্থক
স্বঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাওয়াদি’ কিছু
দিন আগে জানিয়েছিল। কিন্তু
চলতি বছরের গোড়ায় নির্বাচনের পরে হ্লাইং সরকার
একাধিক মামলায় ২৭ বছর কারাদণ্ডের
সাজাপ্রাপ্ত সু চি সম্পর্কে
নরম মনোভাব নিয়েছে। ৮১ বছরের নেত্রীকে
জেল থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি
করে রাখার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে দেখা
করতে দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রতিনিধিদেরও।
রয়টার্স