সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার (১০ আগস্ট) ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বিধানসভার দিকে মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশনেও রয়েছেন।

পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির রাজধানী রাঁচিতে গত ২৯ জুলাই বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজ্যটির জনসংখ্যা কোটি ৩০ লাখের বেশি। নয়াদিল্লিতে তরুণদের নেতৃত্বেতেলাপোকাআন্দোলনের কয়েক দিন পর ঝাড়খণ্ডে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

অন্তত ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো। তিনি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অনশন করছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে মাহতো বলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই।রাজ্য সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা পরিচালনাকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান তিনি।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দফায় দফায় আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার কাঁটাতারের ব্যারিকেডের পেছনে বিধানসভা এলাকায় কয়েক শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের বড় একটি দল স্লোগান দিতে দিতে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করে যায়।

বিক্ষোভকারীরা রাজ্য সরকারের হয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত কয়েকটি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। পাশাপাশি পরীক্ষাগুলো পরিচালনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশের তদন্তও দাবি করেছেন তারা।

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন কয়েকটি দাবি মেনে নিয়ে বিক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেছেন। পরীক্ষার তদারকির দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্ভিস সংস্থার কয়েকজন সদস্যও পদত্যাগ করেছেন।

রোববার (১০ আগস্ট) এক ভাষণে সোরেন বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

অনলাইনভিত্তিকককরোচ জনতা পার্টি আয়োজনে নয়াদিল্লির বিক্ষোভকারীরা ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় কথিত ব্যর্থতার প্রতিবাদে ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন করেন। শেষ পর্যন্ত তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এতে আন্দোলনটি অস্বাভাবিক এক সাফল্য পায় এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।

ঝাড়খণ্ডের বিক্ষোভেও একই ধরণের দাবি উঠছে। সরকারি চাকরিকে কর্মসংস্থানের প্রধান পথ হিসেবে দেখা দেশটিতে সীমিত সংখ্যক সরকারি চাকরির জন্য লাখো তরুণ প্রতিযোগিতা করেন। তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষেরও প্রতিফলন ঘটছে বিক্ষোভে।

নয়াদিল্লির বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। তবে ঝাড়খণ্ডের বিক্ষোভকারীরা বিজেপি বিরোধী রাজ্য সরকারের কাছেই পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।

এএফপি, নয়াদিল্লি