আবার নতুন করে আন্দোলন শুরুর পরিকল্পনার কথা জানালেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির ‘চাপে’ সিজেপি-র কর্মসূচির জন্য প্রেক্ষাগৃহ (হল) ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। দীপকে-র অভিযোগ, শাসকদলের ‘হুমকি’র কারণে শেষ মুহূর্তে প্রেক্ষাগৃহের বুকিং বাতিল করছেন কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১২
আগস্ট) দিল্লিতে
সিজেপি-র স্বেচ্ছাসেবকদের সভা
করার কথা ছিল। সেই
জন্য প্রেক্ষাগৃহও বুক করা হয়েছিল।
অভিযোগ, প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ শেষপর্যন্ত সিজেপি-র বুকিং বাতিল
করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন
করা হলে দীপকে বলেন,
‘‘অনুষ্ঠান করার জন্য আমরা
একটা হল খুঁজছিলাম। কিন্তু
কেউ আমাদের হল ভাড়া দিতে
রাজি হচ্ছিলেন না। সবাই একই
কথা জানান। আমাদের হল ভাড়া না-দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া
হয়েছে। অন্তত ১০টি হল মালিক
আমাদের জায়গা দিতে পারবেন না
বলে জানান। আমরা প্রশ্ন করেছিলাম,
কেন আমাদের হল দেবেন না?
আমাদের তাঁরা বলেন, হল দিলে বিপদে
পড়বেন।’’
আয়োজকেরা
শেষপর্যন্ত দিল্লির একটি হলে অনুষ্ঠান
করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অনুষ্ঠান
শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে তা বাতিল
করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
দীপকে-র কথায়, ‘‘অনেক
কষ্টের পর আমরা একটি
হল জোগা়ড় করেছিলাম। আমাদের কাছে বুকিংয়ের রসিদও
আছে। কিন্তু যাঁরা আমাদের ওই হলটি দিয়েছিলেন,
তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যদি তাঁরা ওই
হলে আমাদের সভা করতে দেন
তবে তাঁদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া
হবে।’’
দীপকে-র নিশানায় বিজেপি।
তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের এ ধরনের সভা
করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সব কিছুই করছে বিজেপি। তাদের
কার্যকলাপ বা তারা যে
ভাষায় কথা বলছে, তাতে
স্পষ্ট তারা দেশের যুব
সম্প্রদায়কে ভয় পাচ্ছে। ওরা
যদি মনে করে, এই
সব করে আমাদের আটকানো
যাবে, তবে ভুল করছে।’’
দিল্লির
যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিন
ধর্না অবস্থান করেছিল সিজেপি। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে
শুরু হওয়া সেই আন্দোলনে
শেষপর্যন্ত ‘জয়’ পায় তারা।
তাদের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয়
শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র
প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে। এ
ছাড়াও, আরও কয়েকটি দাবি
ছিল সিজেপি-র। কেন্দ্রের সঙ্গে
এ নিয়ে দফায় দফায়
বৈঠক করে ‘ককরোচ’-রা।
শেষপর্যন্ত কেন্দ্র জানায়, তারা সিজেপি-র
সব দাবি মেনে নেবে।
শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা
দেন ধর্মেন্দ্রও। তার পরেই সিজেপি
জানায়, যন্তর মন্তর থেকে তারা অবস্থান
তুলে নিচ্ছে। তবে এ-ও
জানিয়ে রাখে, কেন্দ্র যদি তাদের প্রতিশ্রুতি
পূরণ না-করে তবে
আবার পথে নামবে তারা।
সেই
প্রসঙ্গ টেনে দীপকে বলেন,
‘‘ইনস্টাগ্রামে অনেকেই মন্তব্য করছিলেন আবার কবে ‘যন্তর
মন্তর সিজ়ন-২’ চালু হবে?
আমি তাঁদের বলতে চাই, শীঘ্রই
তা শুরু করব আমরা।’’
আনন্দবাজার