বিতর্কের আবহে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মল্লিকার্জুন খড়্গে। জ্ঞানেশকে ‘মোদী সরকারের হাতের পুতুল’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, জ্ঞ়ানেশের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কারণে নৈতিকতার খাতিরে তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মতপ্রকাশ করেন খড়্গে।

কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ছিল মঙ্গলবার। এই বৈঠকে ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে পাঁচটি দাবি জানান খড়্গে। তাঁর প্রথম দাবি হল, ভোটার তালিকায় কোথায় কী বদল করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনা হোক। দ্বিতীয় দাবি, এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের পুনরায় নাম তোলার সুযোগ দেওয়া হোক। কী কারণে নাম বাদ পড়েছে, তা-ও সবিস্তারে জানানো হোক।

খড়্গের তৃতীয় দাবি হল, ভোটার তালিকা এবং এই সংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে তুলে দেওয়া হোক। চতুর্থ দাবি, এসআইআর-পর্বে যেখানে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে, সেখানে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। খড়্গের পঞ্চম এবং শেষ দাবি হল, নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য এবং সিদ্ধান্ত স্পষ্ট ভাবে জানানো হোক, যাতে কোনও রাজনৈতিক দল বা ভোটারের মনে না-হয় যে, তারা সব তথ্য পাচ্ছে না।

জ্ঞানেশকে কটাক্ষ করে খড়্গে বলেন, “দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মোদী সরকারের হাতের পুতুল হয়ে উঠেছেন। তাঁর সহকর্মীরাই তাঁকে বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।” রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা জ্ঞানেশের অভিযোগ, বিজেপি এবং মোদী সরকারের হয়ে ভোটারদের নাম কাটার ষড়যন্ত্রে শামিল নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা। মোদী সরকার নতুন ভোটারদের নাম তোলার প্রক্রিয়াও কঠিন করে দিয়েছে বলে দাবি করেন খড়্গে।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনকে ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কমিশনারের অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী। গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। বিতর্কের মুখে কমিশনের ব্যাখ্যা, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন এই ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে বিরোধী দলগুলি কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছে।

সূত্র: আনন্দবাজার