যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের কাছ থেকে জব্দ করা অর্থসম্পদ থেকে এ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। ট্রাম্পের এমন ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান।

জুলাইয়ের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও দখলে থাকা ইরানের অর্থ থেকে হরমুজ প্রণালিতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। তবু আমরা মনে করি, এভাবেই কাজ করাটা সবচেয়ে ন্যায্য হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘অন্য একটি দেশের সম্পদ জব্দ করে ভবিষ্যতের অন্য কোনো ক্ষতিপূরণ মেটানোর চেষ্টা খুবই বিপজ্জনক নজির।

আরাগচি আরও বলেন, ‘যাঁরা এ অর্থ থেকে লাভবান হচ্ছেন বা এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিতবিভিন্ন দেশের সরকার যদি অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করাকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে, তাহলে ভবিষ্যতে কারও সম্পদই নিরাপদ থাকবে না। এতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা ভালো ফল বয়ে আনবে না।

ইরানের জব্দ করা সম্পদের বিষয়টি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। গত জুনে যুদ্ধ অবসানের পথ তৈরি করতে দুই দেশ যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল, তাতে এ বিষয়ের উল্লেখ ছিল। তবে সেই সমঝোতা পরে ভেঙে যায়।

ইরানের সম্পদ জব্দ করে রাখার ঘটনা নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ কয়েক দশক ধরে ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করে রেখেছে।

ইরানের জব্দ হওয়া সম্পদের সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এর মূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে।

১৯৭৯ সালে তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনার পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ইরানের অর্থসম্পদ জব্দ করে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা তেলবাহী ট্যাংকারের সংখ্যা মাত্র একটিতে নেমে এসেছে। ৭ মের পর এটিই ছিল ওই প্রণালি দিয়ে এক দিনে সবচেয়ে কম ট্যাংকার চলাচলের ঘটনা।

আলজাজিরা