যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে বরং আমেরিকান চাপ মোকাবিলা ও সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার বিষয়ে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
শুক্রবার (৫
সেপ্টেম্বর) নিউ
ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "মধ্যপ্রাচ্যে
বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা
নিয়ে ইরান এখন অনেক
বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা
বা ব্যর্থ করার লক্ষ্যে তারা
আরও কয়েক মাস ধরে
সংঘাত চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বলে
মনে হচ্ছে।"
চলতি
সপ্তাহে নতুন করে সংঘাত
শুরুর প্রেক্ষাপটে এই মূল্যায়নটি সামনে
এল।
সংবাদপত্রটি
জানিয়েছে, "এখন পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি
হামলার ঘটনা সীমিত আকারেই
ঘটেছে। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো—যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা
পড়েছেন—তা থেকে ইঙ্গিত
পাওয়া যায় যে, ইরানের
কট্টরপন্থী সরকার হয়তো সংঘাতের মাত্রা
উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।"
গোয়েন্দা
মূল্যায়নে আরও ইঙ্গিত দেওয়া
হয়েছে যে, যুদ্ধ অবসানের
লক্ষ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো
কঠিন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের
বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে আসার
বিষয়ে তেহরানের আগ্রহের খুব কমই লক্ষণ
দেখা যাচ্ছে।
মধ্যবর্তী
নির্বাচন
কিছু
কর্মকর্তার ধারণা, তেহরান হয়তো অন্তত নভেম্বরে
অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত জিইয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারে। তাদের
হিসাব হলো, অব্যাহত যুদ্ধ
এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য
জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদনে
উল্লেখ করা হয়েছে যে,
ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন
না; কারণ তিনি মনে
করেন, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই তেহরানকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ পর্যন্ত
তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ছাড় দিতে বাধ্য
করা সম্ভব। তবে গোয়েন্দা তথ্যের
বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা নিউ
ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন যে, নিষেধাজ্ঞার ফলে
সংঘাত আরও তীব্র হয়ে
উঠতে পারে।