মিয়ানমার-লাগোয়া বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসকে আধুনিক এবং পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার ৩১১ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
রামু
ক্যান্টনমেন্ট হলো বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর ১০ম পদাতিক ডিভিশনের
হেডকোয়ার্টার। কক্সবাজারের
মত স্ট্র্যাটেজিক লোকেশনে এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান ক্যান্টনমেন্ট, যা "দক্ষিণের দূর্গ" নামে পরিচিত। এই ক্যান্টনমেন্টে
একটি ইমার্জেন্সী রানওয়েও রয়েছে। ১০ম
পদাতিক ডিভিশনের অধীনে যে যে আর্মি
ফর্মেশনগুলো রয়েছে সেগুলো হলো: ১০ম আর্টিলারী
ব্রিগেড, ২য় ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড, ৬৫ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড, ৯৭ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের
নথি অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। বাস্তবায়ন করবে সেনাসদর,
ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ শাখা, পূর্ত পরিদপ্তর ও ঢাকা সেনানিবাস। প্রতিরক্ষা খাতের আওতায়
নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনা বিভাগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক
ও বেসামরিক এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি
করপোরেশন এবং বেনাপোল উপজেলা অন্তর্ভুক্ত।
প্রকল্পের মূল
লক্ষ্য হচ্ছে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রামু সেনানিবাসকে আধুনিক
মানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ
করা হবে। নথিতে বলা হয়েছে, সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সুদৃঢ়তা এবং আধুনিক সশস্ত্র
বাহিনী গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রামু সেনানিবাসকে আধুনিক
মানে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত
কাজের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক সুবিধা
গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের
সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রয়োজনীয় ভবন ও আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের
মাধ্যমে রামু সেনানিবাসকে বিশ্বমানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব
হবে।