শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাধর সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের স্ত্রী শিরান্থি রাজাপাকসেকে বুধবার (৭ অক্টোবর) গ্রেফতার করা হয়েছে। ফার্স্ট লেডি থাকাকালীন তাঁর দাতব্য সংস্থার জন্য পাওয়া অনুদানের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ
শিরান্থি রাজাপাকসেকে তাঁর বাসভবনে জিজ্ঞাসাবাদ
করে এবং পরে আদালতে
হাজির করে। আদালত তদন্ত
চলাকালে তাঁকে এক সপ্তাহের জন্য
আটক রাখার নির্দেশ দেয়। এরপর পুলিশ
তাঁকে গাড়িতে করে কারাগারে নিয়ে
যায়। সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের কারণে তাঁর এক চোখে
ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল।
রাজাপাকসের
বিরুদ্ধে অভিযোগ, একটি সরকারি হাসপাতালের
জন্য স্ক্যানার কেনার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে তাঁর দাতব্য
সংস্থা যে অনুদান পেয়েছিল,
তিনি সেই অর্থ অপব্যবহার
করেছেন। দাতব্য সংস্থাকে অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে
নিয়মকানুন বা প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের
অভিযোগে ওই ব্যাংকের তৎকালীন
প্রধানকেও আটক করা হয়। তবে আদালত তাঁকে জামিনে মুক্তি দেয়।
ঘুষ
গ্রহণের অভিযোগে সাবেক এই দম্পতির ছেলে
ও আইনপ্রণেতা নামাল রাজাপাকসেকেও আটক করা হয়েছে।
২০০৯
সালে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের
অবসান ঘটিয়ে তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের পরাজিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত
সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে ও তাঁর ভাই
গোতাবায়া রাজাপাকসে। এর ফলে দেশের
সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কাছে তাঁরা অত্যন্ত
জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
তবে
২০১০ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার
পর ঘুষ, দুর্নীতি ও
বাকস্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগে
তাঁর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। এর জেরে
২০১৫ সালে তৃতীয় মেয়াদে
ক্ষমতায় আসার চেষ্টাকালে তিনি
পরাজিত হন। তাঁর পরিবার
তখন অবাধ ক্ষমতার অধিকারী
ছিল—তাঁর ছেলে, ভাই
ও ভাইপো-ভাইজিরা সরকারের শীর্ষস্থানীয় সব পদে আসীন
ছিলেন।
২০১৯
সালে পরিবারটি আবারও রাজনীতিতে ফিরে আসে। ইস্টার
সানডের দিন গির্জা ও
হোটেলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অনুপ্রেরণায় চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৬৭
জন নিহত হওয়ার পর
জাতীয় নিরাপত্তা একটি প্রধান উদ্বেগের
বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যা
তাঁদের ফিরে আসার পথ
প্রশস্ত করে। ওই বছরের
শেষের দিকে গোতাবায়া রাজাপাকসে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন; তবে পরবর্তীতে
কোভিড-১৯ সংকট, পর্যটন
খাতের মন্দা এবং তাঁর নিজস্ব
কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে দেশটি তীব্র
অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ব্যাপক
গণ-বিক্ষোভের মুখে তিনি পদত্যাগ
করতে এবং দেশ ছেড়ে
পালাতে বাধ্য হন।
২০২৪
সালে দুর্নীতিবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে অনুরা কুমারা
দিসানায়েকে রাষ্ট্রপতি হন এবং রাজাপাকসে
পরিবার ও পূর্ববর্তী প্রশাসনের
যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এপি