হামাস যোদ্ধাদের নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে
ইরান সংকটে এখনো জটিলতার মধ্যে
রয়েছেন তিনি। এমন একটি কৌশল
খুঁজছেন, যা তাকে এই
সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার
পথ দেখাবে-কিন্তু সেই পথ এখনো
অধরা।
পাঁচ
মাস ধরে চলা যুদ্ধের
পর ট্রাম্পের কৌশলগত বিকল্পের সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে
পড়েছে। তার কর্মকাণ্ডে এমন
ধারণা তৈরি হচ্ছে যে,
তিনি পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই বারবার
পরিকল্পনা বদলাচ্ছেন।
বুধবার
ইরানের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের খুব
কঠোরভাবে আঘাত করব, কারণ
এবার আঘাত করার পালা
আমাদের।’ জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলার কথা
বলেন তিনি।
ইরানকে
বিমান হামলার মাধ্যমে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার ট্রাম্পের প্রচেষ্টা
এখন পর্যন্ত সফল না হওয়ায়
এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরাক
থেকে সৌদি আরব, এমনকি
মিসর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
এখন এক ধরনের অচলাবস্থার
মধ্যে পড়েছেন।
শুক্রবার
মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিড প্রেসিডেন্সিয়াল রিট্রিটে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের
নিয়ে বৈঠক করেন। তবে
সেখানে কৌশল পরিবর্তনের কোনো
ইঙ্গিত দেননি।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, চলতি
সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে ট্রাম্প
ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং যুদ্ধ
শেষ করার সীমিত বিকল্প
নিয়ে তিনি ‘হতাশ’ ছিলেন।
বর্তমান
পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে তেহরানের ওপর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র
ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে হামলা
শুরু করে। এতে ইরানের
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী
খামেনিসহ বহু কর্মকর্তা নিহত
হয়। তবে এরপর পরিস্থিতি
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি।
‘দ্রুত
সমাধান
নেই’
যুদ্ধের
শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, এই অভিযান চার
থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে
শেষ হতে পারে। তার
দাবি ছিল, তেহরানকে পারমাণবিক
অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতেই এই
অভিযান চালানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের
কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ইরানের নৌবাহিনী
ধ্বংস করা এবং ব্যালিস্টিক
ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে। তবে বর্তমানে সংঘাতের
কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ
প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, এখানে জাহাজে হামলার মাধ্যমে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ নৌ চলাচল ব্যাহত
করেছে।
এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটনকে অপ্রস্তুত করে দিয়েছে বলে
মনে হচ্ছে। ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির
যে চুক্তি হয়েছিল, তাও ইতোমধ্যে ভেঙে
গেছে।
এরপর
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অঞ্চলটির মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য
করে হামলা চালিয়েছে।
এএফপি