মে মাসে যখন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত কিছু বেকার যুবক আন্দোলনকর্মীকে তেলাপোকা এবং পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, তখন তিনি একটি অভিন্ন পরিচয়ের সন্ধানে থাকা প্রজন্মকে নিজের পরিচয় জানান দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই অপমানজনক মন্তব্যটি একটি ঐক্যের স্লোগানে পরিণত হয়। লক্ষ লক্ষ তরুণ ভারতীয় তরুণ ঘোষণা করেম্যায় ভি ককরোচ” (‘আমিও একটি তেলাপোকা’), এই অপমানজনক মন্তব্যটিকে মিমে পরিণত করে এবং একই সাথে একটি রাজনৈতিক দলও গঠন করে।

কেউ কেউ এটিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে ভুল করা হিসেবে দেখছেনকারণ, তাঁর নিজের সরকারই ভারতের প্রান্তিক বেকার যুবকদের সংগঠিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্ফুলিঙ্গটি জুগিয়েছিল। কিন্তু এই উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া চিরায়ত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উদীয়মান নেতৃত্ব তত্ত্ব, ডিজিটাল মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগের কৌশল এবং ইতোমধ্যে চলমান বৈশ্বিক প্রবণতাগুলোকে উপেক্ষা করে। গত দুই বছরে নেপাল, বাংলাদেশ, কেনিয়া এবং মাদাগাস্কারে জেন জি প্রজন্মের বিদ্রোহ সরকারগুলোকে উৎখাত বা নাড়িয়ে দিয়েছে। এবং প্রতিটিই একই ডিজিটাল কাঠামো থেকে নির্মিত, যা ব্যবহারকারীর ডিজিটাল পদচিহ্ন তৈরি, পুনরুৎপাদন এবং প্ল্যাটফর্মের প্রসারণযোগ্যতা নিয়ে গঠিত।

ভারতের প্রশাসন হয়তো ধরে নিয়েছিল যে তারা এই বৈশ্বিক ধারা থেকে মুক্ত, অথবা এই প্রবণতাটি শনাক্ত করার মতো সরঞ্জাম তাদের কাছে ছিল না। সুতরাং, এই ব্যর্থতা ছিল রাজনৈতিক সংগঠনের একটি নতুন রূপের প্রতি তাদের অন্ধত্ব।

ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আধুনিক বিকেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব তত্ত্বের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই প্রতিফলিত করে। একজন ব্যবহারকারীর রেখে যাওয়া ডিজিটাল পদচিহ্ন পরবর্তী ব্যবহারকারীকে পথ দেখানোর উদ্দীপক হয়ে ওঠে, যা কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশ ছাড়াই সমন্বয় সাধন করে। আরও তিনটি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য এই প্রক্রিয়াটিকে সংজ্ঞায়িত করে: স্বাধীন ব্যক্তিগত কার্যকলাপ, যা দেখে তা অনুলিপি অভিযোজিত করে সমকক্ষদের দ্বারা পুনরুৎপাদনযোগ্যতা, এবং এমন প্ল্যাটফর্ম যা সেই পদচিহ্নগুলোকে মূল ডিজিটাল পদচিহ্ন নেটওয়ার্কের অনেক ঊর্ধ্বে প্রসারিত করে। সিজেপি তার অস্তিত্বের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এই তিনটি বৈশিষ্ট্যই প্রদর্শন করেছিল।

এর উৎস খুঁজে পাওয়া যায় শহুরে, বিশ্বব্যাপী শিক্ষিত এবং ডিজিটাল জগতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিত্বদের মধ্যেএকই বৈশিষ্ট্য যা অন্যান্য জেন জি-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনেও দেখা যায়। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনসংযোগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী অভিজিৎ দীপকের অনলাইনে পোস্ট করা একটি সংক্ষিপ্ত, আত্মকেন্দ্রিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি সাধারণ ওয়েবসাইট এবং সাইন-আপ ফর্মের মাধ্যমে এইদলটিপ্রতিষ্ঠিত। এরপর তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সিজেপি- ইশতেহার এবং ব্র্যান্ডিং তৈরি করেন।

এই আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র নয়াদিল্লি-ভিত্তিক সাংবাদিক সৌরভ দাস প্রতিবাদের বার্তা প্রচারের জন্য ডিজিটাল মিডিয়ার আপডেট ব্যবহার করেন। দুই দিনের মধ্যেই সাইন-আপের সংখ্যা লক্ষ ছাড়িয়ে যায় এবং এর কিছুদিন পরেই তা সাড়ে তিন লক্ষে পৌঁছায়। কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারীর সংখ্যা কোটি ৮০ লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা কিছু সময়ের জন্য মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং কংগ্রেস উভয়েরই আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

বিশ্বজুড়ে একই ধরনের আন্দোলনের মতোই এইতেলাপোকাআন্দোলনটি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়, কারণ এটি দেশের ডিজিটাল সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের গভীর অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছিল। ভারতের পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল ১৫. শতাংশ, যেখানে সার্বিকভাবে এই হার থেকে . শতাংশ। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমান অনুযায়ী, ২৫ বছরের কম বয়সী কলেজ স্নাতকদের ৪০ শতাংশেরও বেশি বেকার ছিলেন, যা প্রায় কোটি ১০ লক্ষ মানুষ।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (এনইটিটি) নামক একটি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ায়, একটি বিমূর্ত অভিযোগ তাৎক্ষণিক রূপ নেয়। পরীক্ষায় নিবন্ধিত ২৩ লক্ষ শিক্ষার্থী সরকারিভাবে স্বীকৃত ডাক্তারি পেশায় প্রবেশের একটি বাস্তব সুযোগ হারাতে বসে।

শিক্ষা কর্মসংস্থানের ব্যর্থতাগুলো সম্মিলিতভাবে অর্থ খুঁজে পাওয়ার জন্য উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে, কারণ এগুলো ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে প্রায় প্রতিটি তরুণ পরিবারকে স্পর্শ করে। একারণেই এই আন্দোলন হিন্দু মুসলিম পরিবারগুলোকে প্রতিবাদস্থলে পাশাপাশি প্রার্থনা করতে খেতে একত্রিত করেছিল, যেখানে একজন মুসলিম রাঁধুনি প্রতিদিন বিক্ষোভকারীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন এবং শিখ গুরুদ্বারগুলো গণরান্নাঘর চালাচ্ছিল।

অনলাইনে, এই আন্দোলন তার যোগাযোগ প্রচারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে মিমকে ব্যবহার করে। অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের তুলনায় মিমের একটি স্বতন্ত্র সুবিধা রয়েছে। এগুলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তৈরি করা যায়, সৃজনশীলভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেয় এবং যেকোনো ব্যবহারকারীকে দ্রুত মজার ছলে মূল বার্তাটি বুঝতে সাহায্য করে। মিম আরও শক্তিশালী কারণ এর গঠনশৈলী এটিকে নতুন করে তৈরি করার সুযোগ দেয়। একজন ব্যবহারকারী শুধু একটি মিম দেখেই চলে যায় না। তারা এর কাঠামো নকল করে, বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে এবং পুনরায় পোস্ট করে, যার ফলে মূল নকশাটি বহু বৈচিত্র্যে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘোষণামূলক মিম, প্রচারপত্রের প্যারোডি, পরীক্ষার তথ্য ফাঁসের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, এবং কুমির বনাম তেলাপোকার ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার চিত্রকল্পপ্রত্যেকটিরই নিজস্ব কার্যকারিতা রয়েছে। প্রতিটি ভিন্নতা সম্মিলিত ডিজিটাল পরিবেশকে আরও পরিবর্তন করে, যা পরবর্তী পুনর্সৃষ্টির জন্য প্ররোচিত করে। একবার এই সঞ্চয়ন একটি সীমা অতিক্রম করলে, একটি স্বায়ত্তশাসিত ব্যক্তিগত কাজ ক্রমবর্ধমান এবং পরিমাপযোগ্য সম্মিলিত সমন্বয়ে রূপান্তরিত হয়।

বলা যেতে পারে, কান্টের মূল অপমানটিই সেই সীমারেখার চিহ্ন হিসেবে কাজ করেছিল। বেকারত্ব এবং পরীক্ষার সততা নিয়ে বিদ্যমান অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে, এটি যথেষ্ট আবেগিক শক্তি বহন করেছিল, যা কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ বিচ্ছিন্ন হতাশাকে একটি সম্মিলিত, শনাক্তযোগ্য পরিচয়ে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

আবেগিক প্রতিক্রিয়া এবং অ্যালগরিদমিক বিবর্ধনের উপর নির্মিত একটি আন্দোলন টিকে থাকতে পারে কিনা তা নিয়ে কিছু জাতীয় পর্যবেক্ষক সন্দিহান। আমি এর বিপক্ষে যুক্তি দেব। একটি নির্দিষ্ট কারণে সিজেপি-র তার বেশিরভাগ প্রতিপক্ষের চেয়ে টেকসই সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি।

একটি সরকারকে উৎখাত করা, পরবর্তীতে শাসন করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেয়ে সহজ। উদাহরণস্বরূপ, নেপালের ২০০৬ সালের বিপ্লব একটি রাজতন্ত্রকে উৎখাত করলেও তার ফলস্বরূপ পরপর ১৭টি সরকার ক্ষমতায় আসে এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দেয়। নেপাল ও বাংলাদেশ উভয় দেশের সাম্প্রতিক উদাহরণগুলো দেখিয়েছে যে, ডিজিটাল সমন্বয় সরকারি কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারদর্শী হলেও গঠনমূলক কাজে ব্যর্থ হয়। যে ভাইরাল কাঠামো ক্ষোভ ছড়ায়, তাতে শাসনকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক আলোচনা, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান এবং আস্থা খুব কমই থাকে।

তবে, সিজেপি একটি মিমকে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করে সেই প্রতিবন্ধকতাকে চূড়ান্তভাবে অতিক্রম করেছে বলে মনে হচ্ছে। এই একটিমাত্র প্রাথমিক কৌশলগত পদক্ষেপ আন্দোলনটিকে ডিজিটাল ভাইরাল হওয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে অভিযোগগুলোকে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নীতিগত দাবিতে রূপান্তরের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়াও, এর কাঠামো সিজেপি-কে এমন এক সাংগঠনিক গভীরতা দিয়েছে যা বেশিরভাগ নেতৃত্বহীন গণঅভ্যুত্থান কখনোই অর্জন করতে পারে না। এই আন্দোলনটি এমন এক ধরনের বৈধতাও ভোগ করে যা তুলনীয় অন্যান্য আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিরল। এটি ধর্মীয় ভেদাভেদ নির্বিশেষে, বিরোধী রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে এবং এমনকি বিজেপির ঐতিহ্যবাহী সমর্থক গোষ্ঠীর অংশবিশেষ থেকেও সমর্থন পায়।

তবে, এই বৈধতা আন্দোলনটিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ থেকে রক্ষা করতে পারবে না। ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার কাছে ডিজিটাল আন্দোলনকে দমন করার অনেক উপায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে সরাসরি প্রবেশাধিকার সীমিত করা। ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে, দেশব্যাপী ৬৩৭টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে ৫০১টিই ছিল বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে, এবং যেখানেই হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা বা ধারাবাহিক প্রতিবাদ কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানেই বন্ধের সম্ভাবনা তীব্রভাবে বেড়েছে।

কেন্দ্র নয়, বরং রাজ্য সরকারগুলোই এই বন্ধের বেশিরভাগ আদেশ জারি করে, যা শাসক দলকে সেইসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার জন্য একটি বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা দেয়, যার ওপর মিমগুলো নির্ভর করে। এই দমনপীড়ন থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন লাভবান হয়, আর আনুষ্ঠানিক দায় গিয়ে পড়ে রাজ্যের স্বতন্ত্র কর্মকর্তাদের ওপর।

দ্বিতীয় হাতিয়ারটি হলো আখ্যান নিয়ন্ত্রণ। মোদীর অধীনে ভারতের গণমাধ্যম জগৎ সরকার-ঘনিষ্ঠ উপস্থাপনার দিকে ঝুঁকে থাকে, যেখানে ভিন্নমতকে দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি থাকে। প্রশাসন তার নিজস্ব ডিজিটাল পদচিহ্ন এবং মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর তার প্রভাব ব্যবহার করে সিজেপি-কে বিরোধী দলের প্রক্সি বা তুচ্ছ নিষ্ক্রিয় আন্দোলন হিসেবে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারে, এবং সেই একই মনোযোগের অর্থনীতির জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারে যা এই আন্দোলনকে তার প্রাথমিক মাত্রা দিয়েছিল।

সুতরাং, চলমান এই আন্দোলনের পরবর্তী পরিণতি কী হবে, তা একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন। সিজেপি একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পরিকাঠামো তৈরি করে সেই বাধা অতিক্রম করেছে যা বেশিরভাগ নেতৃত্বহীন আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়। সেই পরিকাঠামোটি ক্রমাগত প্রশাসনিক চাপ সহ্য করতে পারবে কি না, এবং সরকারের হরতাল ও আখ্যানের কৌশলগুলো সমকক্ষদের দ্বারা পুনরুৎপাদনের ওপর নির্মিত একটি আন্দোলনকে ভেঙে দিতে সক্ষম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

এমনকি যদি এটি টিকেও যায়, সিজেপি তৃণমূল স্তরের বৈধতাকে নির্বাচনী বা নীতিগত ফলাফলে রূপান্তরিত করতে পারবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তেলাপোকা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে টিকে আছে চালাক হয়ে নয়, বরং নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে না থামানোর মাধ্যমে। ভারতের ডিজিটাল পরিমণ্ডলে এখন ছড়িয়ে পড়া তেলাপোকার মিম যেমনটা ইঙ্গিত দেয়, ভারতীয় যুবসমাজ এই দ্রুত অভিযোজন ক্ষমতাকেই এখন প্রদর্শন করছে।

দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে অনুদিত