দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণস্থলে বোমা হামলার জন্য ইরানের পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (এওইআই) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাতির মর্যাদা এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের
প্রচেষ্টার একটি প্রতীককে লক্ষ্যবস্তু
করেছে।
সংস্থাটি
এক বিবৃতিতে বলেছে, “সন্ত্রাসী ও অপরাধী মার্কিন
শাসনব্যবস্থা, যার প্রকৃতি কেবলই
জবরদস্তি ও আইনহীনতা, আন্তর্জাতিক
আইন লঙ্ঘন করে একটি আগ্রাসী
ও বর্বর কাজ করেছে।”
এওইআই
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ করেনি, তবে এই হামলাকে
আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিদ্যুৎ
কেন্দ্রটি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত। বর্তমান পারমাণবিক চুল্লিটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালে আহভাজ
থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে
এবং পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় ১০০
কিলোমিটার উত্তরে কারুন নদীর তীরে একটি
স্থানে শুরু হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক
পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএএইএ) জানিয়েছে, তারা শরিবার (১৮ জুলাই) রাতের হামলার খবর খতিয়ে দেখছে।
জাতিসংঘের
এই সংস্থাটি বলেছে, “স্থাপনাটি নির্মাণের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আইএএইএ-র
সর্বশেষ পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো
পারমাণবিক উপাদান ছিল না।” সংস্থাটি
আরও যোগ করেছে যে,
এই হামলা কোনো তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি
তৈরি করবে বলে মনে
করা হচ্ছে না।
আইএএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল
গ্রোসি “সমস্ত পারমাণবিক-সম্পর্কিত স্থাপনার আশেপাশে সামরিক সংযম” প্রদর্শনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে শনিবার, ইরানের
কর্মকর্তারা জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে
বোমা হামলা পুনরায় শুরু করার পর
ইরান ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক
থেকে সরে এসেছে।
এক মাস আগে স্বাক্ষরিত
একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে
যাওয়ার পর থেকে ইরান
ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের হামলা তীব্রতর করেছে, যা সর্বাত্মক যুদ্ধে
ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন
সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় (পূর্বাঞ্চলীয় সময়) (জিএমটি রাত ১০টায়) সর্বশেষ
বিমান হামলা শুরু হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, "হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি দেওয়ার
ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করা
এবং গত রাতে জর্ডানে
মার্কিন সেনা সদস্যদের ওপর
হামলা চালানো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বাহিনীকে দ্রুত শাস্তি দেওয়াই এই হামলার উদ্দেশ্য।"
সেন্টকম
পরে জানায়, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও বিমান প্রতিরক্ষা
স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো তাদের
ধারাবাহিক হামলা সম্পন্ন হয়েছে।
ইরানের
মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে,
যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিকের কাছে একটি হামলা
চালিয়েছে এবং এতে কোনো
হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষতির
খবর পাওয়া যায়নি।
আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে,
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরাকি সীমান্তের কাছে শাদেগানের নিকটবর্তী
একটি স্থানেও হামলা চালিয়েছে।
ইরানের
পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
অকার্যকর করা এবং এর
আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোকে দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র
ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির
ওপর হামলা চালালে এই সংঘাত শুরু
হয়।
এর ফলে জ্বালানি সরবরাহে
বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালীর
নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই তীব্রতর হয়েছে।
শনিবার
গভীর রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয়
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
বলেছেন, মার্কিন কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্পের স্বাক্ষর "সম্পূর্ণ মূল্যহীন এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীন"।
বিবৃতিতে
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য "আরও বড় মূল্য
এবং আরও অপমানের" হুঁশিয়ারি
দেওয়া হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রথম দিনে বিমান হামলায়
তার বাবা ও পূর্বসূরি
সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি
নিহত হওয়ার পর থেকে খামেনিকে
জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
মিডিল ইস্ট
আই