রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক কর্পোরেশন রোসাটম আগামী বছর মিয়ানমারে পারমাণবিক চুল্লি নির্মান করবে।
সামরিক শাসক
থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং
হ্লাইং-এর সাম্প্রতিক মস্কো সফরের পর এই ঘোষণা
দেয়া হয়। তিনি রাশিয়ার
জ্বালানি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য জোরালো প্রচেষ্টা
চালান।
রোসাটমের
মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ জানান যে দুই দেশের মধ্যে এ ব্যাপারে
চুক্তি হয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজের
সূচনা হতে চলেছে।
২০২৫
সালের মার্চে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকার চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া মিয়ানমারে একটি ১১০-মেগাওয়াট
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে করবে, যা ৩৩০ মেগাওয়াট
পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে। এতে দুটি চুল্লি থাকবে। এই পরিকল্পনায় রাশিয়ার
আরআইটিএম-২০০এন প্রেশারাইজড
ওয়াটার চুল্লি ব্যবহারের কথা রয়েছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বলেছেন, এই প্রকল্প “রাশিয়া-মিয়ানমার বন্ধুত্বের এক নতুন প্রতীক
হয়ে উঠবে।”
চলতি
মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইং-এর প্রথম রাশিয়া
সফরের সময় তার প্রতিপক্ষ
ভ্লাদিমির পুতিন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ
কেন্দ্রকে দুই দেশের জন্য একটি “প্রধান”
প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মিয়ানমার সরকার
২০২৩ সালে ইয়াঙ্গুনে একটি
পারমাণবিক তথ্য কেন্দ্র চালু
করে এবং গত বছর
রাশিয়ার সাথে পারমাণবিক নিরাপত্তা
ও বিকিরণ সুরক্ষা বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে।
অর্থ
সংকটে থাকা হ্লাইং সরকার কীভাবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের
খরচ মেটাবে তা স্পষ্ট নয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকার রাশিয়ার কাছ থেকে সহজ
শর্তে ঋণ নিতে পারে, যা আয়
শুরু হলে পরিশোধ করা
হবে। অথবা, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে এর খরচ
মেটানো হতে পারে।
মডিউলার
নকশার কারণে প্রকল্পটি শেষ হতে কয়েক
বছর সময় লাগবে বলে
ধারণা করা হচ্ছে এবং নেপিডোর কাছে
এটি বসানো হবে। তবে,মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী প্রতিরোধ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি নৃশংস যুদ্ধ
চালাচ্ছে, যা এই চুল্লিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
২০২১
সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে রাশিয়া
ও মিয়ানমার অস্ত্র ও জ্বালানি থেকে
শুরু করে অবকাঠামো পর্যন্ত
কৌশলগত সহযোগিতা প্রসারিত করেছে। পারমাণবিক শক্তি এই অংশীদারিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে
পরিণত হয়েছে। কারণ উভয় সরকারই
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন—মস্কো ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য এবং নেপিডো
নিজ দেশে সহিংস দমনপীড়নের
জন্য এই নিষেধাজ্ঞার শিকার।
ভিয়েতনাম,
ইন্দোনেশিয়া এবং লাওসের কাছেও
পারমাণবিক প্রযুক্তি বিক্রি করছে রোসাটম।
দ্য ইরাবতী