ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছে। দেশটিতে ইরানপন্থি সাবেক আধাসামরিক বাহিনীগুলোর একটি জোট বুধবার (২৯ জুলাই) এ দাবি করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী এবং সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে তারা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইরাকে হামলা চালিয়েছে।

 ‘হাশেদ আল-শাবি নামে পরিচিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) আরবিতে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এসব হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্য শহীদ হয়েছেন। আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এছাড়া, কয়েকটি ভবন ও স্থাপনারও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে তেহরান এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয় এটি ইরাকের “জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার লঙ্ঘন।

এর আগে মঙ্গলবার ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এসব গোষ্ঠী দুই ডজনেরও বেশি ড্রোন হামলা চালানোর পর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলাগুলোইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যাদেরকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্য এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

সেন্টকম আরও বলেছে, ‘আইআরজিসি এবং তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এসব হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নেবে।

সৌদি আরবও অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরাকে অবস্থানরত এমন গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, যারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জড়িত।

এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ড্রোন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। হামলার জন্য তারা ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে।

এর পরদিন রিয়াদ ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা চালাতে না দেওয়া হয়। জবাবে বাগদাদ জানায়, ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সেন্টকম মঙ্গলবার আরও দাবি করে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ওপরঅপ্রত্যাশিত হামলার চেষ্টা' হিসেবে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

এর আগে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর হামলা চালায়। জবাবে তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলা চালায়। তবে সপ্তাহান্তে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে হামলা থেকে বিরত ছিল।

আল-জাজিরা, এএফপি