নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় গোটা দেশে এবার সরাসরি মাঠে নামছে সঙ্ঘ পরিবার। শিক্ষাক্ষেত্রে সক্রিয় আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছ। পশ্চিমবঙ্গে যা শুরু হচ্ছে শুক্রবার দুপুর থেকেই। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপকদের সংগঠন এবিআরএসএম, বিএসএম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ‍্যা ভারতী-সহ অন্তত আধ ডজন সংগঠন একযোগে মিছিল ও পথসভার ডাক দিয়েছে জেলায় জেলায়। কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতাতেও কেন্দ্রীয় মিছিল হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করে নিলেও ককরোচ জনতা পার্টি এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড়। শুক্রবার (২৪ জুলাই) কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে তারা। এ দিনই কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে পথে নামছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনও তাদের সঙ্গী। মিছিল, ধর্মঘট, ক্লাস বয়কট-সহ বিবিধ কর্মসূচি নিয়েছে তারা।

সঙ্ঘ পরিবারের অভিযোগ, নিট-আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে গোটা দেশেই বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছেন বামপন্থীরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে ওই আন্দোলনের রেশ ছড়িয়েছে। সেই কারণেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়তে পথে নামার সিদ্ধান্ত। যেহেতু শিক্ষাক্ষেত্রের একাধিক সংগঠন একসঙ্গে পথে নামবে বলে স্থির হয়েছে, তাই একটি অভিন্ন ব‍্যানারের অধীনে এই কর্মসূচিগুলির আয়োজন করা হবে। সেটির নাম ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ। এই ব‍্যানার সামনে রেখে যে সংগঠনগুলি পথে নামছে, সেগুলির রাজ‍্য নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বৈঠকও সেরে নিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শুক্রবার বেলা ১২টায় প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মীদের সে সমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার সঙ্ঘ পরিবার পথে নামছে ঝাড়গ্রামে। বিকেল সাড়ে চারটেয় ঝাড়গ্রাম পাঁচমাথার মোড়ে জমায়েতের ডাক। সেখান থেকে শুরু হবে মিছিল। শেষে পথসভা। বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি, পশ্চিম বর্ধমানেও মিছিল, পথসভা ইত্যাদির ডাক দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতায় কেন্দ্রীয় মিছিল আয়োজন করা নিয়েও কথা শুরু হয়েছে বলে সঙ্ঘ সূত্রের খবর।

এবিআরএসএম-এর রাজ‍্য নেতা বাপি প্রামাণিক বলেন, ‘‘প্রশ্ন ফাঁস হওয়া অবশ‍্যই উদ্বেগজনক ঘটনা এবং সেটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলছেন। কিন্তু নিট-এর ক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁসের পরেও কোনও ছাত্রের বছর নষ্ট হতে না-দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পুনঃপরীক্ষা করিয়েছে এবং সুষ্ঠু ভাবে তার ফল প্রকাশও করিয়ে দিয়েছে। তার পরেও এই রকম হিংসাত্মক আন্দোলন অনর্থক। সেই বার্তা নিয়েই আমরা পথে নামছি।’’ বিএসএম-এর প্রান্ত টোলি সদস্য অরিন্দম ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘নিট-কাণ্ড বা প্রশ্নফাঁস রোখার দাবি এখন মুখোশমাত্র। এই আন্দোলন ছাত্রেরা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাতে দেশবিরোধী শক্তি ঢুকে পড়েছে। তারাই পুরো আন্দোলনের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।’’

আনন্দবাজার ডট কম