সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করে নিলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এরই মধ্যে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছেন সিজেপি-র প্রতিনিধিরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় এই বৈঠক হওয়ার কথা। শুরু থেকেই, কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে নয়, নিরপেক্ষ জায়গায় বৈঠকে বসার দাবি জানিয়ে আসছে সিজেপি। সেই কথা মাথায় রেখেই বৈঠকের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্য
দিকে, শুক্রবার সকাল থেকে ফের
ভিড় বাড়ছে যন্তর মন্তর চত্বরে। ‘নিরাপত্তাগত কারণে’ শুক্রবার দিল্লির ১৭টি মেট্রো স্টেশন
বন্ধ রাখা হচ্ছে। এগুলির
মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রাজীব চক,
দিল্লি গেট, সেবা তীর্থ,
সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার একই কারণে ১৬টি
মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বৈঠকে
দু’পক্ষের প্রতিনিধি হিসাবে কারা থাকবেন, আনুষ্ঠানিক
ভাবে তা এখনও জানানো
হয়নি। তবে বৈঠকের খবরে
সিলমোহর দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস শুক্রবার
সকালে বলেন, “আমাদের প্রতিবাদ চলবে। সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাবকে
বেছে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি যে,
মুক্ত ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।”
সিজেপি-র আর এক
মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর বৈঠক প্রসঙ্গে
বলেন, “প্রথম দিন থেকে আমরা
আমাদের দাবিগুলিতে অনড়। সেগুলির কথাই সরকারকে জানাব।”
সিজেপি
মূলত তিনটি দাবির কথা তুলেছে। তারা
ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা দাবি করেছে। নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের
কারণে যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছে। আর
‘শান্তিপূর্ণ’ প্রতিবাদে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের
বিরুদ্ধে যে সমস্ত এফআইআর
দায়ের হয়েছে, সেগুলি খারিজ করার কথা বলেছে।
ঘটনাচক্রে,
শুক্রবার সকালে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, কেন্দ্রের তরফে মূলত তিনটি
আশ্বাস পাওয়ার পরেই ২৬ দিনের
অনশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন
তিনি। সেই আশ্বাসগুলির মধ্যে
রয়েছে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের
বিরুদ্ধে কোনও মামলা হবে
না। নিট-এর প্রশ্নপত্র
ফাঁসের পর যে পড়ুয়ারা
আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে ‘পর্যাপ্ত’ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচক ভাবে বিবেচনা’ করে
দেখা হবে। আর পরীক্ষা
ব্যবস্থার ত্রুটির দিকগুলি নিয়ে সংসদে আলোচনা
করবে সরকার এবং দেশের বিরোধী
দলগুলি। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, কেন্দ্র তাঁকে এই তিনটি বিষয়ে
লিখিত আশ্বাস দিয়েছে।
সে দিক থেকে দেখলে
ওয়াংচুককে দেওয়া কেন্দ্রের প্রথম দু’টি প্রতিশ্রুতির
বাস্তবায়ন হলে সিজেপি-র
দু’টি দাবিরও মীমাংসা
হয়। কিন্তু ‘ককরোচ’-রা শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার
দাবিতে অনড়। অনশন প্রত্যাহারের জন্য
ওয়াংচুককে ধন্যবাদ জানালেও সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ
দীপকে স্পষ্ট করেছেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী
ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না-করা পর্যন্ত
যন্তর মন্তরে তাঁদের প্রতিবাদ চলবেই।
আনন্দবাজার
ডট কম