ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ শহর 'মোখা' দখল করে নিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য পথ—কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হলো।
বিভিন্ন
সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে
যে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী পিছু হটার পর
ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি মোখার
নিয়ন্ত্রণ নেয়। ইয়েমেনের সরকারি
তিনটি সূত্রও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শহরটি দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আল-জাজিরা জানায়, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল এবং অতিরিক্ত সৈন্যও
তলব করেছিল... কিন্তু আনসারুল্লাহ হুথিদের প্রবল সামরিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত
তারা বন্দর ও শহরটির নিয়ন্ত্রণ
হারায়। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ 'হাইস' জেলারও পতন ঘটেছে।
তবে
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এ বিষয়ে এখনো
কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
গত ১০ দিন ধরে
হুথিরা মোখা দখলের লক্ষ্যে
তাইজ শহরের পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার
চেষ্টা করছিল। ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর
উপকূল দখলের অভিযানের অংশ হিসেবে তারা
প্রণালীর তীরবর্তী অন্যান্য উপকূলীয় শহরগুলোর ওপরও প্রায় পূর্ণ
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে রয়েছে।
মোখা
বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অর্থ হলো হুথিরা
এখন বাব আল-মান্দেব
প্রণালীর ওপরও নিয়ন্ত্রণ রাখছে।
তিনি বলেন, "এর ফলে আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের ওপর নজরদারি চালানোর
মতো সক্ষমতা ও প্রভাব হুথিদের
হাতে চলে এল।
উল্লেখ্য,
বিশ্ব বাণিজ্যের ১০-১২ শতাংশই
এই বাব আল-মান্দেব
প্রণালী দিয়ে পরিচালিত হয়।"
প্রতিরক্ষা
বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসতাই বলেন, মোখা দখল একটি
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা; কারণ এর ফলে
ইয়েমেনি বিদ্রোহীরা তাইজ শহরের সংযোগ
সড়কটি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো
সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে, যা
সরকারের জন্য "একটি বড় ধরনের
আঘাত"।
পুসতাই
আল-জাজিরাকে বলেন, এর মাধ্যমে তারা
"লোহিত সাগরে ইয়েমেনের প্রায় পুরো উপকূল" এবং
বাব আল-মান্দেব প্রণালী
নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অর্জন
করেছে।
তিনি
উল্লেখ করেন যে, হরমুজ
প্রণালীর প্রস্থ যেখানে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০
মাইল), সেখানে বাব আল-মান্দেব
প্রণালী অনেক বেশি সংকীর্ণ—এর প্রস্থ মাত্র
২০ কিলোমিটার (১২ মাইল)।
“এর অর্থ হলো, তারা
কেবল আর্টিলারি বা কামানের গোলা
দিয়েই এর নিয়ন্ত্রণ বজায়
রাখতে পারবে; এমনকি জাহাজে হামলার জন্য তাদের ক্ষেপণাস্ত্র
বা ড্রোন ব্যবহারেরও প্রয়োজন হবে না। এটি
নিশ্চিতভাবেই সৌদি আরবের নৌ-চলাচল এবং আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য একটি বড়
আঘাত হবে,” বিশ্লেষকটি বলেন।
আল জাজিরা