স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপনায় পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের স্বাস্থ্য পেশাজীবী প্রতিনিধি দল চীনের কুনমিংয়ে বিশেষায়িত ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে।
এ লক্ষ্যে গত
৩০ আগস্ট থেকে ‘৫ম বাংলাদেশ মেডিকেল
অ্যান্ড হেলথ প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জ
অ্যান্ড ট্রেনিং প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে এবং
চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ইউনান প্রদেশ সরকারের পররাষ্ট্র কার্যালয় এবং কুনমিং মেডিকেল
ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে কুনমিং
মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন
করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা চীনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের
কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা
অর্জনের সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণের
অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কুনমিংয়ের
বিভিন্ন খ্যাতনামা হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। সেখানে তারা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা
প্রদান ব্যবস্থা, চিকিৎসা কার্যক্রম, হাসপাতাল প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের
ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
এছাড়া
প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
পরিদর্শন করবেন। এর মাধ্যমে তারা
ওষুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং ওষুধ শিল্পের
ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সম্পর্কে
ব্যবহারিক ধারণা লাভ করবেন।
শ্রেণিকক্ষভিত্তিক
পাঠদান ও মাঠপর্যায়ের ব্যবহারিক
অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের কারিগরি জ্ঞান বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং চীনা সহকর্মীদের
সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহায়তা করবে বলে আশা
করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহানাজ আখতার রাণু আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ
ও পেশাগত বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি
বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি
স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ
ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও
জোরদার করতেও সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য
ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
(ডিজিএইচএস) মহাপরিচালক আরশাদ মিয়া প্রতিনিধি দলের
নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে ইউনান প্রদেশের পররাষ্ট্র কার্যালয়ের উপমহাপরিচালক মা জুওশিন, কুনমিং
মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট শিয়া শুয়েশান, সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তারা, ইউনান প্রদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশি প্রশিক্ষণার্থীরা
উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা ব্যবহারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান
অর্জন করবেন, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা
ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতে
মানবসম্পদ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে
অবদান রাখবে বলে আশা করা
হচ্ছে।
বাসস