ভারতের উত্তর প্রদেশে একটি এলাকায় শতাধিক মানুষ মাটিতে বিছানো চাটাইয়ের ওপর পা গুটিয়ে বসে আছেন। জুলাইয়ের প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছেন এবং জাতীয় পতাকা নাড়াচ্ছেন।
রাজধানী
নয়াদিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটার
(১৩২ মাইল) দূরের ওই এলাকাটির নাম
রামপুর। কয়েক দিন আগে
শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে নয়াদিল্লিতে হাজারো তরুণের বিক্ষোভের মুখে দেশটির কেন্দ্রীয়
শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের
পর নয়াদিল্লির বিক্ষোভকারীরা ঘরে ফিরে গেলেও
রামপুরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে।
সেখানে
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী
এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি দল অনির্দিষ্টকালের
অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। তাদের
দাবি, মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের
৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভেঙে ফেলার
যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা
বাতিল করতে হবে।
ব্রিটিশ
শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা স্বাধীনতা সংগ্রামী
মোহাম্মদ আলী জওহরের নামানুসারে
বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে। উত্তর
প্রদেশের রামপুর জেলায় বিশিষ্ট মুসলিম রাজনীতিক আজম খান এই
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
আজম
খান ২০০৩ সালে মোহাম্মদ
আলী জওহর ট্রাস্ট গঠন
করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে তিন
বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত
হয়। ১৫ জুলাই রামপুর
জেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ ভবন ভেঙে ফেলার
নির্দেশ জারি করেছে। অথচ
সে সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র
প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের তুমুল বিক্ষোভ চলছিল।
রামপুর
প্রশাসনের অভিযোগ, এ ভবনগুলো নির্মাণে
প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা ও বিধিমালা ঠিকমতো
মানা হয়নি।
কর্তৃপক্ষের
দাবি, প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ ভবনসহ মাত্র
দুটি স্থাপনা বৈধ অনুমোদন নিয়ে
নির্মিত হয়েছে। এ দাবি তুলে
তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে
কথিত ‘অবৈধ’ ভবনগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ
দিয়েছে।
প্রশাসন
আরও জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনগুলো অপসারণে ব্যর্থ হলে তারা বুলডোজার
নিয়ে অভিযান চালাবে এবং ভাঙার পুরো
খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকেই আদায়
করা হবে।
গত সোমবার রাজ্য প্রশাসন তাদের আদেশের ওপর একটি অন্তর্বর্তী
স্থগিতাদেশ (ইন্টারিম স্টে) জারি করেছে। তবে
এতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি
যে ভবন ভাঙার কার্যক্রম
সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়েছে কি
না।
জওহর
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরউদ্দিন আল–জাজিরাকে বলেন,
এই স্থগিতাদেশের অর্থ এই নয়
যে ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত
বাতিল করা হয়েছে।
উপাচার্য
বলেন, ‘এর অর্থ হলো,
আরডিএ (রামপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) নির্ধারিত ৫ আগস্টের সময়সীমার
মধ্যে ভবন ভাঙার কাজ
হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় এখন
এমন একটি রায়ের চেষ্টা
করছে, যাতে ভাঙার আদেশটি
সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যায়।
‘ভাঙচুর
বন্ধ
করুন’
২৫০
একরজুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন
বিষয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী
লেখাপড়া করেন। তাঁদের কাছে সরকারের এই
পদক্ষেপ একেবারেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের
মতো অপ্রত্যাশিত আঘাত হিসেবে এসেছে।
১৫ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল
বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী
প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁদের
দাবি, ভবন ভাঙার আদেশ
প্রত্যাহার করতে হবে।
জওহর
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে
স্নাতক সম্পন্ন করা উসামা তাইয়্যাব
প্রশ্ন তোলেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)
আন্দোলনের ফলে যদি একজন
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা
যায়, তাহলে এখানে এত শিক্ষার্থী আন্দোলন
করার পরও উত্তর প্রদেশ
সরকারকে কেন বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার
সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে
বাধ্য করা যাবে না?’
প্রায়
২৪ কোটি মানুষের আবাসস্থল
উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে
হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা
পার্টির (বিজেপি) শাসন চলছে। রাজ্যের
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ একজন
উগ্র হিন্দুত্ববাদী। তিনি মুসলিমবিরোধী বক্তব্য
ও নীতির জন্য পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়টির
প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবনের চ্যান্সেলর
৭৭ বছর বয়সী আজম
খান উত্তর প্রদেশে বিজেপির অন্যতম কড়া সমালোচক। তিনি
সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন।
এই রাজনৈতিক দলটি রাজ্যের ৩
কোটি ৮০ লাখ মুসলিমের
মধ্যে জনপ্রিয়। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত হিন্দু জাতিভুক্ত ভোটারদের একটি বড় অংশও
দলটিকে সমর্থন করে।
‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’
সমাজবাদী
পার্টির আইনপ্রণেতা জাভেদ আলী খান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রায় সব
ভবন) ভেঙে ফেলার নির্দেশটি
শিক্ষাবিরোধী এবং মানুষকে অশিক্ষিত
রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা ক্ষমতাসীন
সরকারের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির অংশ।’
জাভেদ
আলী খান আরও বলেন,
‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করার পেছনে অনেক
কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি আজম খান
প্রতিষ্ঠা করেছেন। দ্বিতীয়ত, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতা মুলায়ম সিং
যাদব। তৃতীয়ত, এর উদ্বোধন করেছিলেন
রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। আর চতুর্থত, এটি
একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়।’
সমাজবাদী
পার্টির প্রধান প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদব ২০২২
সালে মারা যান। তাঁর
ছেলে অখিলেশ যাদব বর্তমানে দলটির
নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তিনি বিজেপিবিরোধী
জোটের এক সদস্য। এই
জোটে ভারতের প্রধান বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল
কংগ্রেসও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠী বলেন, ভবন ভাঙার নির্দেশটি
‘অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ’। তিনি সমাজবাদী
পার্টির বিরুদ্ধে ‘তোষণমূলক রাজনীতি’ করার অভিযোগও তোলেন।
রাকেশ
ত্রিপাঠী আল–জাজিরাকে বলেন,
‘কেউ কি অস্বীকার করতে
পারবেন, আজম খান অবৈধ
জমির ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয়
তৈরি করেছেন? সমাজবাদী পার্টির সরকার থাকাকালে তিনি নিজের পদ
ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে দখল
করা জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ
করেছেন এবং অবৈধ ভবনও
তৈরি করেছেন। আমরা যা করছি,
তা হলো অবৈধ নির্মাণের
বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ
করা। আর এর অর্থ
হলো, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলা উচিত।’
‘মেয়েরা জীবনে
আর
দ্বিতীয়
সুযোগ
পাবে
না’
রামপুরের
একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলার আশঙ্কায়
জনমনে ক্ষোভ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি
অনুযায়ী, সাক্ষরতার হারের দিক থেকে উত্তর
প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে
রামপুরের অবস্থান নিচের দিক থেকে মাত্র
চারটি জেলার চেয়ে ভালো।
এ ছাড়া জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের
প্রায় অর্ধেকই নারী বলে জানান
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রক্টর গুলরেজ নিজামী।
আইন
বিষয়ের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী ইকরা আল–জাজিরাকে
বলেন, তিনি একটি নির্দিষ্ট
কারণেই এই বিশ্ববিদ্যালয় বেছে
নিয়েছিলেন। সেটা হলো নারীদের
জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ।
এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানকার পরিবেশ ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের
তুলনায় নারী শিক্ষার্থীদের এখানে
যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তাতে আমাদের
অভিভাবকেরা সন্তুষ্ট। এই বিশ্ববিদ্যালয় যদি
ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে
আমাদের মতো মেয়েরা আর
কোথাও পড়াশোনা করার সুযোগ পাব
না। আমাদের অন্য কোথাও পড়ার
জন্য পাঠাতে অভিভাবকদের রাজি করানো সম্ভব
হবে না। তাঁরা এই
জায়গা বেছে নিয়েছিলেন, কারণ
তাঁরা বিশ্বাস করতেন, এখানে মুসলিম মেয়েরা নিরাপদে থাকতে পারবে।’
শিক্ষার্থীদের
পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অন্য কোনো
কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
হওয়ার পরামর্শ দিতে সরকার একটি
কাউন্সেলিং ক্যাম্প পরিচালনা করছে বলে জানান
ইকরা।
এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিন্তু আমরা সেখানে যেতে
চাই না। আমরা একটি
নির্দিষ্ট কারণেই এই প্রতিষ্ঠান বেছে
নিয়েছিলাম।’
শুধু
মুসলিম শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনার
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, এমনটি নয়। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থীদের এক–তৃতীয়াংশের বেশি
হিন্দু।
প্যারামেডিক্যালে
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী চাঁদনি দিবাকর আল–জাজিরাকে বলেন,
‘তারা এটিকে মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় বলতে পারে এবং
হ্যাঁ, আইনি মর্যাদার দিক
থেকে এটি একটি সংখ্যালঘু
বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এর অর্থ এই
নয়, এখানে অন্যরা পড়াশোনা করে না।’
চাঁদনি
দিবাকরও বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। অবস্থান
কর্মসূচির স্থানে তিনি বলেন, ‘আমি
এক বছর ধরে এই
বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়ে
থেকেও একবারের জন্যও আমার নিজেকে অমুসলিম
বলে মনে হয়নি। এখানকার
সবাই বন্ধুত্বপূর্ণ—শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, সবাই।’
আরডিএ
বলছে, এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার
প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারা এই পদক্ষেপ
নিয়েছে। ওই কর্মকর্তা অনিয়মগুলোর
বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।
১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ও আরডিএ—উভয়
পক্ষের প্রতিনিধিরা আইনজীবীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন।
সেদিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও
আরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান অজয়
কুমার দ্বিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং এরপর তারা
লিখিত জবাবও দিয়েছে। জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত
৪০টি ভবনের মধ্যে মাত্র দুটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাকি
৩৮টি ভবন অবৈধ বলে
প্রমাণিত হয়েছে।’
কিন্তু
উপাচার্য জহিরউদ্দিন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
করে বলেন, রামপুরের সিঙ্গনখেড়া গ্রামে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান আরডিএর
আওতায় আসে ২০২৪ সালের
সেপ্টেম্বরে অর্থাৎ ভবনগুলো নির্মাণের বহু বছর পর।
তাই নির্মাণের সময় সেসব অনুমোদনের
প্রয়োজন ছিল না এবং
এখন তা দাবি করা
যেতে পারে না।
উপাচার্য
আল–জাজিরাকে আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠার সময় সিঙ্গনখেড়া এলাকায়
আরডিএর কোনো এখতিয়ার ছিল
না। আমরা বিভিন্ন সরকারি
সংস্থার অনুমোদিত কোর্স পরিচালনা করছি, আর এসব সংস্থা
তাদের সব শর্ত পূরণ
করার পরই অনুমোদন দেয়।’
উপাচার্য
জহিরউদ্দিন আরডিএর এই পদক্ষেপকে শিক্ষার
সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, তারা শুধু দূরদর্শী
চিন্তার অধিকারী আজম খানের বিরুদ্ধে
এটিকে একটি হাতিয়ার হিসেবে
ব্যবহার করছে। তিনি সংখ্যালঘু, দরিদ্র
ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নতির জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তবে
কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কথিত
এ অনিয়মগুলোকে বৈধ করা সম্ভব
নয়। ফলে আইনগতভাবে একমাত্র
সমাধান হিসেবে ভবন ভেঙে ফেলা
ছাড়া আর কোনো পথ
নেই।
আল–জাজিরা রামপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিবেদীর
বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে বারবার
যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, এমনকি রামপুরে তাঁর কার্যালয়েও গিয়েছে।
কিন্তু তিনি সাক্ষাৎ করতে
বা সাক্ষাৎকারের অনুরোধের কোনো জবাব দিতে
অস্বীকৃতি জানান।
‘পুলিশ আমাদের
বাড়িতে
আসছে’
ভবন
ভেঙে ফেলার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরডিএর আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের
আইন বিভাগের স্নাতক উসমান আলী আল–জাজিরাকে
বলেন, ‘অন্যরা যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের
মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায় করতে
পারে, তাহলে আমরা মুসলিম শিক্ষার্থীরা
কেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা বন্ধ
করার বৈধ দাবি পূরণ
করতে পারব না? এর
জন্য যদি ত্যাগ স্বীকার
করতে হয়, আমরা তা
করতে প্রস্তুত। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে এই অন্যায় আমরা
আর মেনে নেব না।’
উসমান
আলী অভিযোগ করেন, ধর্মঘটে থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়ি
গিয়ে পুলিশ পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি
করছে, যাতে তারা আন্দোলন
বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য
করে।
উসমান
বলেন, ‘পুলিশ আমাদের বাড়ি আসছে এবং আমাদের
অভিভাবকদের পরিণতির হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু আমরা পিছু হটব
না।’
গত শনিবার সমাজবাদী পার্টির আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধিদল বিক্ষোভকারীদের
সঙ্গে যোগ দেয়। ওই
দলে ছিলেন জাভেদ আলী খান, সাম্ভল
আসনের জিয়া উর রহমান বার্ক
ও কৈরানার ইকরা চৌধুরী।
বিজেপি
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসা
ও নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার
পর থেকে ভারতে মুসলিমদের
ঘরবাড়ি, মসজিদ, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা
ভেঙে ফেলার ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকার
সংগঠনগুলোর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের
প্রভাব অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মুসলিমদের ওপরই বেশি পড়ছে।
তবে
কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা শুধু ‘অবৈধ
দখল’ উচ্ছেদের লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এ নিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের
হিন্দি সাহিত্যের শিক্ষক অপূর্বানন্দ আল–জাজিরাকে বলেন,
‘বিষয়টিকে (ভবন ভাঙার পদক্ষেপ)
একাধিক দিক থেকে দেখা
যায়। প্রথমত, এটি হিন্দু ভোটারদের
সামনে মুসলিমদের প্রভাবকে দমন করার একটি
প্রদর্শনী। দ্বিতীয়ত, এই সরকারের মেয়াদজুড়ে
সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একটি ধারাবাহিক প্রচার
চালানো হয়েছে। আর তৃতীয়ত, তারা
হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে
মেলামেশা চায় না, আর
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই এমন মেলবন্ধনের অন্যতম
প্রধান ক্ষেত্র।’
জওহর
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক আবদুল
কালিম আনসারি যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সদ্য
তিনি রামপুরে ফিরেছেন।
উভয়
আন্দোলনে অংশ নেওয়া আনসারি
বলেন, তিনি বিস্মিত যে
শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নামা ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ আন্দোলনের
কর্মসূচিতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
ভেঙে ফেলার আসন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আনসারি
বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর যে
তারা শিক্ষা সংস্কারের কথা বলছে। কিন্তু
দিল্লি থেকে মাত্র কয়েক
শ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি
সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে জারি করা ভবন
ভাঙার নোটিশ নিয়ে তারা কিছুই বলছে
না।’
আনসারি
আরও বলেন, ‘এর ফলে বর্তমান
ও প্রাক্তন সব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর এখন আমরা
জানি না, এখান থেকে
আমাদের কোথায় যেতে হবে।’
আল–জাজিরা