জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আগামী ১৯ নভেম্বর একটি যুগান্তকারী রায় দিতে যাচ্ছে। মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো দমন-পীড়ন ‘গণহত্যা’ কি না, তা নিয়েই এই রায় দেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক
বিচার আদালতের (আইসিজে) বিচারকরা সাত বছর ধরে
গাম্বিয়ার আনা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা
করছেন। গাম্বিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নৃশংস
দমন-পীড়ন ১৯৪৮ সালের
জাতিসংঘ গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।
যদিও
আইসিজের রায় কার্যকর করার
সরাসরি কোনো ক্ষমতা নেই,
তবুও মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে বলে রায় দেওয়া
হলে দেশটির নেতা মিন অং
হ্লাইংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ
আরও বাড়বে।
রোহিঙ্গাদের
ওপর দমন-পীড়নের সময়
তিনি সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে এক
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি অং সান
সু চির নির্বাচিত সরকারকে
ক্ষমতাচ্যুত করেন।
এ বছর অত্যন্ত সীমাবদ্ধ
এক নির্বাচনের পর তিনি বেসামরিক
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নিজের শাসনের
বৈধতা অর্জনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা
চালাচ্ছেন, তবে এই রায়
তার সেই প্রচেষ্টাকে জটিল
করে তুলতে পারে।
এই রায়কে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার
জন্য ন্যায়বিচার হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
আইসিজে
বিভিন্ন দেশের মধ্যকার বিরোধের নিষ্পত্তি করে থাকে। এই
আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে আইন বিশেষজ্ঞরা
নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছেন। কারণ, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গুরুত্বপূর্ণ গণহত্যা
মামলার ক্ষেত্রে এই আদালতের অবস্থান
কেমন হতে পারে, তার
একটি ইঙ্গিত এখান থেকে পাওয়া
যেতে পারে।
মিয়ানমার
বরাবরই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের
দাবি, বেশ কয়েকটি হামলার
ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক ডজন সদস্য
নিহত হওয়ার পর, তারা কেবল
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থান দমনের লক্ষ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
মিয়ানমারের
সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের
দমন-পীড়নের মুখে কয়েক লাখ
রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
তারা সঙ্গে নিয়ে আসে দলবদ্ধ
ধর্ষণ ও নির্বিচারে হত্যার
মতো ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতার বর্ণনা।
বর্তমানে
দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত
পেরিয়ে বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।
এএফপি