বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) থেকে ‘আদিবাসী স্কুল ঠিক করো’ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ভারতের জেন-জি সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, বিগত প্রায় ৮০ বছর ধরে দেশের আদিবাসী স্কুলগুলি সম্পর্কে ভারত সরকার একেবারেই উদাসীন। তাই সিজেপির নেতৃত্বে ১৭ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের গঢ়চিরোলি থেকে এই অভিযান শুরু হবে।
বুধবার
(১৬ সেপ্টেম্বর) এক সাংবাদিক
সম্মেলনে দীপকে জানান, দেশ জুড়ে আদিবাসী
পড়ুয়ারা উপেক্ষা ও বৈষম্যের শিকার।
সে দিকে সরকারের দৃষ্টি
আকর্ষণ করতেই এই অভিযান।
এক মাস আগে শহর
ও গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলির উন্নয়নের দাবিতে জাতীয় স্তরে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান
শুরু করেছিল সিজেপি। বুধবার বেলার দিকে নাগপুরে আদিবাসী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনাসভার আগে দীপকে জানালেন,
এ বার তাঁদের লক্ষ্য
আদিবাসী স্কুল।
তিনি
বলেন, ‘‘অতীতে সব সরকারই আদিবাসী
পড়ুয়াদের উপেক্ষা করেছে। কোটি কোটি টাকা
খরচ করে রাজনৈতিক দলগুলি
রাজ্যে রাজ্যে সদর দফতর তৈরি
করতে পারে, অথচ আদিবাসী স্কুলগুলির
জন্য একটা টাকাও বরাদ্দ
হয় না। ওরা স্কুল
চালাচ্ছে ভাড়াবাড়িতে। আদিবাসী জনসংখ্যা কিন্তু নেহাৎ কম নয়। তাদের
ব্যাপারেও সরকারকে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। শুধু
৭.৮ জিডিপি বৃদ্ধির
কথা বললেই হবে?’’
‘‘আমরা
সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি,
গ্রামাঞ্চল ও আদিবাসী স্কুলগুলির
দিকেও নজর দেওয়া হোক।
শুধুমাত্র শহুরে বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়ারাই কিন্তু দেশের ভবিষ্যত নয়’’, বলেন দীপকে।
দীপকে-র বক্তব্য, ‘‘মহারাষ্ট্রে
গত দু’বছরে ৫৯০
জন আদিবাসী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবছর প্রত্যন্ত এলাকায় সাপের কামড়ে কত যে আদিবাসী
ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়, কিন্তু তাতে
সরকারের টনক নড়ে না।
এই ঘটনা যদি পুণে
বা মুম্বইয়ে ঘটত, তা হলে
কি সরকার চুপ করে বসে
থাকতে পারত?’’
দীপকে
জানান, মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে বিগত দু’মাসে
৩০ জন পড়ুয়ার মৃত্যু
হয়েছে। ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড — এই
রাজ্যগুলি থেকে আদিবাসী ছাত্রমৃত্যুর
খবর আসছে। এই পরিবারগুলি সরকারের
তরফে ক্ষতিপূরণও পায় না। আদিবাসীদের
জন্য তৈরি ৭২০টি একলব্য
মডার্ন স্কুলের মধ্যে ৪৭৭টি বন্ধ হয়ে পড়ে
রয়েছে। প্রশ্ন হল, তা হলে
আদিবাসী পড়ুয়ারা কোথায় পড়াশোনা করবে?
আদিবাসী
শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার মাত্র ২২.৮ শতাংশ। এ
ছাড়া মাত্র ১৩০ জন তফসিলি
উপজাতি (এসটি) আবেদনকারী আইআইটি-তে ভর্তির সুযোগ
পেয়েছেন। আইআইটি-তে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের
ভর্তির সংখ্যা এবং আদিবাসী শিক্ষকের
সংখ্যা এত কম কেন,
এই প্রশ্ন তুলে দীপকে জানান
এটি বৈষম্য ছাড়া আর কিছুই
নয়।
আনন্দবাজার