সামরিক প্রশিক্ষণ, মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (জিসোমিয়া)-এর অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করেছে।
মঙ্গলবার (৪
জুলাই) বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল
স্টিভ কেলার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁদের
মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে
আলোচনা হয়েছে।
ঢাকায় মার্কিন
দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে
সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার।
বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে
তাঁরা আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন তাঁর ফেসবুক পেজে জানান, মার্কিন নৌবহরের কমান্ডার বিভিন্ন
নৌ মহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয়
কারাট (কো–অপারেশন রেডিনেস অ্যাফ্লোট অ্যান্ড ট্রেনিং) বাংলাদেশে আয়োজনের
বিষয়টি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের
প্রশান্ত মহাসাগরীয় বহর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে প্রতিবছর দ্বিপক্ষীয়
ও বহুপক্ষীয় নৌ মহড়া কারাটের আয়োজন করে থাকে। এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ,
ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।
প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন কমান্ডার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সি ভিশন এক্সারসাইজে বাংলাদেশের
অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত রিম অব দ্য পিসের
মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয় সূত্র জানায়, উভয় পক্ষ জিএসওএমআইএ-এর অগ্রগতি এবং প্রস্তাবিত চুক্তিটি নিয়ে
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে আলোচনা করেছে।
জিএসওএমআইএ
স্বাক্ষরিত হয়েছে এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, কিংবা এর সমাপ্তির তারিখও ঘোষণা করা
হয়নি।
আলোচনায় বাংলাদেশের
পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।
একই সঙ্গে যুগোপযোগী ও বিস্তৃত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার
আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
কমান্ডার স্টিভ
কেলার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কমান্ডার আফ্রিকার
বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবস্থান সব সময় শান্তির পক্ষে।
বৈঠকে অন্যদের
মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা
উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।