গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দশ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই
সাতটি জেলায় বন্যার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে, হাজার হাজার পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং
২,৬৭,৯১৮টি পরিবার
আটকা পড়েছে।
বন্যার
পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় অনেক
বাসিন্দা দিনের পর দিন রান্না
করতে পারছেন না, আবার রান্নাঘর
ও থাকার জায়গা পুরু কাদায় ঢেকে
যাওয়ায় অন্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
“আমাদের
ঘরের ভেতরে এখনও পানি জমে
আছে এবং রান্না করার
কোনো উপায় নেই। আমাদের যা
শুকনো খাবার ছিল তাও ফুরিয়ে
গেছে, আর বিদ্যুৎ না
থাকায় আমরা আমাদের সন্তানদের
নিয়ে অন্ধকারে রাত কাটাচ্ছি,” বলেন
চট্টগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম।
হাজার
হাজার পরিবার রান্না ছাড়া শুকনো খাবার—যেমন চিঁড়ে, মুড়ি
বা বিস্কুট—এবং জরুরি ত্রাণ
সহায়তার ওপর নির্ভর করছে।
তবে, ভেসে যাওয়া রাস্তা
ও ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কিছু
এলাকায় ত্রাণকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ
ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী
ও নৌবাহিনীর সদস্যরা নৌকাযোগে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ এবং
অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।
"সরকার
বন্যা দুর্গতদের সহায়তা করতে সম্ভাব্য সবকিছু
করছে। ত্রাণ, নিরাপদ পানীয় জল ও চিকিৎসা
সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে এবং
আমরা প্লাবিত বাড়ির মানুষদের নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান
জানাচ্ছি," চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ইকবাল
হোসেন একথা বলেন।
চলতি
সপ্তাহের শুরুতে ভারী বৃষ্টির কারণে
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, এতে
নারী ও শিশুসহ ১৬
জন শরণার্থী নিহত হন। এই
শিবিরগুলোতে দশ লাখেরও বেশি
রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস করেন, যেখানে
খাড়া, বনশূন্য পাহাড়ের ঢালে তৈরি অস্থায়ী
আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বর্ষাকালে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ
বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ, যেখানে মৌসুমি
বর্ষার কারণে নিয়মিত বন্যা, নদীভাঙন ও ভূমিধস ঘটে
থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি আরও ঘন ঘন
ও তীব্র হচ্ছে, যা এই ধরনের
দুর্যোগের মাত্রা ও তীব্রতা বাড়িয়ে
দিচ্ছে।
রয়টার্স