ভারতে ভোজশালা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে মুসলিমদের পক্ষে করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।
মঙ্গলবার
ভোজশালা সংক্রান্ত বিরোধকে একটি স্পর্শকাতর বিষয়
উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট
হিন্দু ও মুসলিম উভয়
পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
আদালত বলেছেন, তাঁরা নিয়মিত শুনানি চালিয়ে দ্রুত এ বিরোধের নিষ্পত্তি
করতে প্রস্তুত।
তবে
ভোজশালা–কামাল মওলা মসজিদে নামাজ
আদায়ের অনুমতি চেয়ে মুসলিমদের পক্ষে
করা অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন মঞ্জুর করেননি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। এর পরিবর্তে মুসলিমদের
জন্য ভোজশালার পাশে একটি খোলা
জায়গা নির্ধারণ করতে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁরা প্রতি শুক্রবার বেলা ১টা থেকে
৩টার মধ্যে জুমার নামাজ আদায় করতে পারবেন।
এ ছাড়া আদালত নির্দেশ
দিয়েছেন, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)
আদালতের অনুমতি ছাড়া ভোজশালায় কোনো
ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন করতে পারবে না।
মুসলিমপক্ষ
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গত মে মাসের
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে ভোজশালা মসজিদকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ভারতের
সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ভোজশালাকে মন্দির ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের
বিরুদ্ধে মুসলিমপক্ষের করা আপিল শুনানির
জন্য গ্রহণ করেছেন।
ভোজশালা
একটি স্পর্শকাতর বিষয় উল্লেখ করে
সুপ্রিম কোর্ট হিন্দু ও মুসলিম—উভয়
পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
আদালত জানান, তাঁরা প্রতিদিন শুনানি চালিয়ে দ্রুত এ বিরোধের নিষ্পত্তি
করতে প্রস্তুত।
ভোজশালা
মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। গত মে মাসে
মুসলিম পক্ষ থেকে সে
রায়কে চ্যালেঞ্জ করা হয়। মুসলিমপক্ষ
ভোজশালা প্রাঙ্গণে নামাজ আদায়ের অধিকার বহাল রাখার দাবি
জানায়।
প্রধান
বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য
বাগচী ও ভি মোহনাকে
নিয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানিতে
বলেন, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আদালতকে প্রতিটি শব্দ ব্যবহারে অত্যন্ত
সতর্ক থাকতে হবে।
ভারতের
আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই)
২০০৩ সালে দেওয়া এক
আদেশে মুসলিমদের ভোজশালা প্রাঙ্গণে প্রতি শুক্রবার নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট চলতি বছরের মে
মাসে সে আদেশটি বাতিল
ঘোষণা করেন।
মধ্যপ্রদেশ
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে দাবি করা হয়,
ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র
এবং দেবী সরস্বতীর একটি
মন্দির থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হিন্দু
সম্প্রদায়ের দাবি, ভোজশালা হলো বিদ্যার দেবী
সরস্বতীকে উৎসর্গ করা একটি মন্দির,
যা রাজা ভোজ নির্মাণ
করেছিলেন। অন্যদিকে মুসলিমপক্ষের দাবি, এই স্থানটি শতাব্দীর
পর শতাব্দী ধরে কামাল মওলা
মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ভারতের
প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ২০০৩
সালের আদেশ অনুযায়ী, হিন্দুরা
মঙ্গলবার এবং মুসলিমরা শুক্রবার
ওই স্থানে নিজ নিজ ধর্মীয়
আচার পালন করে আসছিলেন।
তবে
হিন্দুদের পক্ষ থেকে এই
আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন
জানানো হয়। তাদের দাবি
ছিল, ভোজশালা প্রাঙ্গণে এককভাবে পূজার অধিকার দেওয়া হোক।
এরপর
২০২৪ সালের ১১ মার্চ মধ্যপ্রদেশ
হাইকোর্ট ভোজশালা–কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সে
বৈজ্ঞানিক জরিপ চালানোর জন্য
এএসআইকে নির্দেশ দেয়।
সেই
বছরের ২২ মার্চ এএসআই
জরিপ শুরু করে। ৯৮
দিন ধরে জরিপ চালানোর
পর তারা আদালতে তাদের
প্রতিবেদন জমা দেয়।
সংস্থাটি
তাদের দুই হাজারের বেশি
পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বর্তমান
মসজিদ নির্মাণের আগে ধার রাজবংশের
শাসনামলে নির্মিত একটি বৃহৎ স্থাপনা
সেখানে ছিল। বর্তমান বিতর্কিত
স্থাপনাটি মন্দিরের বিভিন্ন স্থাপত্য উপাদান পুনর্ব্যবহার করে নির্মাণ করা
হয়েছে।
হিন্দুপক্ষের
দাবি, এএসআইয়ের বৈজ্ঞানিক জরিপে পাওয়া মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপি প্রমাণ
করে, এই স্থাপনা মূলত
একটি মন্দির ছিল।
তবে
মুসলিমপক্ষ আদালতে দাবি করেছে, এএসআইয়ের
জরিপ প্রতিবেদনটি ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং এটি হিন্দু
আবেদনকারীদের দাবির পক্ষে সমর্থন জোগানোর উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
এনডিটিভি