মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে রেমিট্যান্সে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এর কারণ হিসেবে তিনি ওই অঞ্চলে অনেক বাংলাদেশির চাকরি হারানো, বাধ্য হয়ে অনেকের দেশে ফিরে আসা এবং চাকরি ছাড়া অনেকের সেখানে টিকে থাকার চেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন।
সোমবার (১২
অক্টোবর) বিআইআইএসএস মিলনায়তনে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে
তিনি এসব কথা বলেন।
সৌদি আরবে তিন
মিলিয়নের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের
পরিস্থিতি রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন বিদেশি শ্রমবাজার অনুসন্ধানের
মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন
তিনি।
প্রবাসীকল্যাণ
ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য
নতুন কর্মগন্তব্য চিহ্নিত করতে কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশে
চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে
সরকারের।
শামা ওবায়েদ
বলেন, বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে দক্ষ কর্মী
পাঠানো ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দক্ষতা বৃদ্ধি
ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন
বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক
হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দুই দিনে এসব ঘটনায় বাংলাদেশ দুই
নাগরিককে হারিয়েছে। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ২৪ জন বাংলাদেশি চিকিৎসা
নিচ্ছেন, যার মধ্যে কয়েকজন আইসিইউতেও রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,
‘আমরা আশা করি, এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ হবে। কারণ সাধারণ মানুষ
নিহত হচ্ছেন, পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আরও প্রাণহানি ও দুর্ভোগ এড়াতে সংঘাতের
দ্রুত অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মক্কা চুক্তিতে
যোগদানের সিদ্ধান্ত হয়নি
সৌদি আরব অনুরোধ
জানালে বাংলাদেশ সেখানে সেনা পাঠাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,
বাংলাদেশ এখনও মক্কা চুক্তিতে যোগ দেয়নি।
তিনি আরও বলেন,
‘আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলেই কেবল বলা যায় যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা
এখনও মক্কা চুক্তিতে যোগ দিইনি। তাই এই মুহূর্তে সেনা পাঠানোর প্রশ্নই আসে না।’
বাংলাদেশ সৌদি
সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে এবং হামলার অবিলম্বে অবসান চায় বলেও উল্লেখ
করেন তিনি শামা ওবায়েদ।
মক্কা ও মদিনার
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বিশ্বের মুসলমানদের
কাছে কূটনৈতিক ও আবেগগত—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন,
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। তাই এই দুই পবিত্র নগরী হুমকির মুখে পড়লে বাংলাদেশ
নির্বিকার থাকতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে বলেও
জানান তিনি।
জ্বালানি
নিরাপত্তা
সংঘাতের কারণে
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ
বলেন, বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে আরও স্বনির্ভরতা অর্জনে সরকার
দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি মন্ত্রণালয় নতুন জ্বালানি উৎস চিহ্নিত করার কাজ করছে
বলেও জানান তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশ
ও সৌদি আরবের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন বলেও জানান পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী।
তবে সংঘাতের
কারণে দেশের জ্বালানি খাতে তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যার ইঙ্গিত পাননি বলে জানান পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি আমার মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। আপনারা জ্বালানিমন্ত্রীর
সঙ্গে কথা বললে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।’
এ সময় সম্ভাব্য
বিঘ্ন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কারণে দেশে কোনো সমস্যা
হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
যুদ্ধের কারণে
বাংলাদেশ সমস্যায় পড়লে তার প্রভাব শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও জানান শামা
ওবায়েদ।
বিশ্বের অন্যান্য
দেশও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নিজেদের
সেই পরিস্থিতিতে দেখছি না।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী,
ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন গবেষণা
প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনবি