সৌদি আরবের ওপর হুথি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, সৌদি আরব তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি' বাস্তবায়নের সময় এখন এসেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) 'জিও নিউজ'-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সৌদি আরব এবং পবিত্র নগরী মক্কা মদিনার সুরক্ষায় পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, কোনো চুক্তি না থাকলেও এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা ইসলামাবাদের দায়িত্ব।

পাকিস্তান ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলেই আসিফ বলেন, "মক্কা চুক্তি আমাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।"

তবে ​​হুথি কর্মকর্তারা পবিত্র নগরীকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছেন।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, "আমাদের অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হলো তাদের [সৌদি] তেল স্থাপনা সামরিক ঘাঁটি, যা পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।"

আসিফ আরও জানান, হামলার ঘটনায় রিয়াদের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ইরানের কাছে সৌদি আরবের একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

আসিফ বলেন, "আমার মনে হয় না রাষ্ট্র হিসেবে ইরান নতুন কোনো ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্র খুলবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, তারা ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে একটি যুদ্ধে জড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, সংঘাত যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য পাকিস্তান প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইফ এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ইয়েমেনের বাসিন্দা ছিলেন।

সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, হুথিরা তাইফ লক্ষ্য করে ওই ড্রোনটি পাঠিয়েছিল।

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা জোরদার হওয়ার পর এই মাসে দেশটিতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

ওয়াশিংটন তেহরানের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করার পাশাপাশি সৌদি আরব তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করে পাকিস্তান নিজেকে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

গত আগস্ট দেশ তিনটি মক্কায় 'যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষর করে; এই চুক্তির আওতায় কোনো সদস্যের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের পরপরই এর সঙ্গে ন্যাটোর নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 5) তুলনা করা হতে থাকে, যদিও বিশ্লেষকরা এই বিধানটিকে আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

এদিকে রয়টার্স তিনটি ইরানি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলার বিষয়ে সৌদি আরব বেইজিংয়ের কাছে সহায়তা চাওয়ার পর চীন গোপনে ইরানকে হুথিদের ওপর নিজেদের প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য চাপ দিয়েছে। বেইজিং প্রকাশ্যে সংযম আলোচনার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ নৌ-চলাচল ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কথা বলেছে; তবে পর্দার আড়ালে তারা তেহরানের কাছে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে যাতে চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুটে আর কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

সূত্রগুলো জানায়নি যে বেইজিং ঠিক কীভাবে এই বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছে কিংবা বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির চীন সফরের সময় চীনা কর্মকর্তারা বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন কি না।

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, এর জবাবে তেহরান জানিয়েছে যে ওই অঞ্চলে শান্তি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা নির্ভর করছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসানের ওপর।

মিডল ইস্ট আই