২০১৯ সালের ইস্টার সানডে-তে বোমা হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায়ে শ্রীলঙ্কার একটি আদালত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সাবেক পুলিশ প্রধান পুজিত জয়াসুন্দরাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ওই হামলায় ৪৫ জন বিদেশিসহ ২৭৯ জন নিহত হয়েছিলেন।
তিন
বিচারপতির একটি বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ
সিদ্ধান্তে রায় দিয়েছে যে,
সাবেক আইজিপি এই প্রাণঘাতী হামলা
থামাতে তার দায়িত্ব পালনে
ব্যর্থ হয়েছেন। এই হামলার জন্য
একটি দেশীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়।
৬৬ বছর বয়সী জয়াসুন্দরা
সুপ্রিম কোর্টে তার এই রায়ের
বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
শ্রীলঙ্কা ১৯৭৬ সাল থেকে
কোন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি এবং মৃত্যুদণ্ডের ওপর
একটি অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছে। ফেব্রুয়ারিতে সংসদে দেওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৮০০
জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন, যাদের সাজা সাধারণত যাবজ্জীবন
কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়।
বিশেষ দ্রুত
বিচার আদালতে শুক্রবারের
এই রায়টি এসেছে ২০২২ সালের একটি
সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আপিলের পর। ওই সিদ্ধান্তে জয়াসুন্দরা এবং হামলার সময়কার
প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকে
খালাস দেওয়া হয়েছিল।
শুনানির
সময় আদালতকে জানানো হয় যে, ২০১৯
সালের ৪ এপ্রিল একটি
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা চরমপন্থীদের দ্বারা সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলার বিষয়ে শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক করেছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিতে
ব্যর্থ হয়। সেই বছরের
২১ এপ্রিলের হামলায় তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলকে
লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এতে ৫০০
জনেরও বেশি মানুষ আহত
হন।
ফার্নান্দো
এবং জয়াসুন্দরাকে ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার
করা হয় এবং জামিনে
মুক্তি পাওয়ার আগে চার মাস
হেফাজতে রাখা হয়।
এর আগে প্রসিকিউটররা আদালতকে
জানিয়েছিলেন যে, এই দুই
শীর্ষ কর্মকর্তার “অবহেলা” “মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ”-এর শামিল এবং
তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। অবশেষে, ২৭৯
জনের মৃত্যুর কারণ হওয়া অবহেলার
জন্য জয়াসুন্দরা দোষী সাব্যস্ত হন।
জয়াসুন্দরা
ও ফার্নান্দো একটি সংসদীয় তদন্তে
সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, বোমা হামলার
আগে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মৈত্রীপালা সিরিসেনা প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
তাঁরা
আরও অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং আইন-শৃঙ্খলা
মন্ত্রী সিরিসেনা এই হুমকিগুলোকে গুরুত্ব
দেননি।
এএফপি