যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টরসহ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়াই ছিল এমন সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেন, নতুন করে বড় আকারের হামলা চালানো সম্ভব হলেও এতে মার্কিন বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলা সত্ত্বেও ইরানকে সামরিকভাবে নিরুৎসাহিত করা যায়নি বলে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন। তাদের মতে, আরো হামলা ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার বদলে দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরো শক্তিশালী করতে পারে।
এদিকে টানা প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলার তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
পেন্টাগন আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌ সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আপাতত সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অংশ ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার পথকেই তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ব্যবসায়ী বাবাক জানজানির ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯টি প্রতিষ্ঠান ও ৪ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস