বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাষ্ট্রপতির
পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব
গ্রহণ না করা পর্যন্ত
স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের
৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর
৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির
পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি,
অসুস্থতা বা অন্য কোনো
কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে
অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি
নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত
স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের
১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে
পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের
৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত
হন।
সংসদে
ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত
ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি
হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া
হবে, তা নিয়ে বিএনপির
শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে
আলোচনা চলছে।
শুক্রবার (২৪
জুলাই) দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯
জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন।
সফরসূচি অনুযায়ী রোববার (২৬ জুলাই) তাঁর ফেরার কথা
থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে
তিনি দেশে ফেরেন।
গত কয়েক দিন ধরেই
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য
পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে
জোরালো আলোচনা চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের
ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি
বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছিলেন বলে
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি
করেছিল।
আওয়ামী
লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের
২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন পাঁচ
বছরের জন্য দেশের ২২তম
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সে হিসাবে
তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে
শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে
মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায়
পৌনে দুই বছর আগেই
তিনি পদত্যাগ করলেন।
২০২৪
সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি
পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা
নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর
ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও
জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত
তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের
সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন ঘটল।