ভারতে আদমশুমারি শুরু, তিন ধাপে হবে চূড়ান্ত

ভারতে আদমশুমারি শুরু, তিন ধাপে হবে চূড়ান্ত
ছবি: প্রতীকী

দেড় দশক পর মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে ভারতে আদমশুমারি শুরু হয়েছে। টানা এক বছর ধরে ৩০ লাখ কর্মী বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই কাজ শেষ করবেন। প্রতি ১০ বছর পর ভারতে আদমশুমারি করা হয়। শেষবার হয়েছিল ২০১১ সালে। করোনাভাইরাস (কোভিড–১৯) মহামারির কারণে ২০২১ সালে গণনা স্থগিত রাখা হয়।

এবারের আদমশুমারি হচ্ছে তিন ধাপে। প্রথম ধাপে কিছু দিন ধার্য করা হচ্ছে নাগরিকেরা যাতে ‘ডিজিটালি’ নিজেদের সবকিছু দাখিল করতে পারেন। সে জন্য অনলাইন ফরম পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খোলা হচ্ছে একটি ‘সেল্ফ এনুমারেশন পোর্টাল’। বিশেষ একটি অ্যাপের মাধ্যমে সেখানে যাবতীয় তথ্য দাখিল করা যাবে। সেই অ্যাপ হবে ইংরেজি ও হিন্দির পাশাপাশি ১৪টি আঞ্চলিক ভাষায়। মোট প্রশ্ন থাকবে ৩৩টি।

ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ সোমবার এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, অনলাইনে পূরণ করা ফরম দাখিলের পর একটি আইডি দেওয়া হবে। গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাখিল করা, সেসব তথ্য যাচাই করবেন। তারপর তা গৃহীত হলে যাচাই করা তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হবে। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এবারের আদমশুমারির চরিত্র হবে ডিজিটাল।

সেল্ফ এনুমারেশনের পর দ্বিতীয় পর্বে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে গৃহ গণনা। কার বাড়ি কেমন, পাকা না কাঁচা, বাড়িতে কী কী আছে; তা আগে দেখা হবে। পরের পর্যায়ে হবে আদমশুমারির কাজ। প্রতিটি গৃহের বাসিন্দাদের তথ্যের পাশাপাশি তাঁদের জীবন ধারণের উপায় কী, বেতন, কর্মসংস্থানের চরিত্র ইত্যাদি নথিবদ্ধ করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

যেসব রাজ্যে বিধানসভার ভোট রয়েছে, সেখানে এই গণনার কাজ শুরু হবে ভোট শেষ হওয়ার পর। গৃহ ও আদমশুমারির মূল কাজ শুরুর ১৫ দিন আগে শুরু হবে সেল্ফ এনুমারেশনের কাজ। আদমশুমারির চূড়ান্ত ফল ২০২৭ সালেই প্রকাশিত হবে।

এবারই প্রথম আদমশুমারির সঙ্গে জাত গণনাও করা হবে। এত দিন তফসিল জাতি ও উপজাতি গণনা করা হতো। এবারই প্রথম অন্যান্য অনগ্রসর জাতিকেও (ওবিসি) চিহ্নিত করা হবে।

নতুন বিতর্ক সংশয়

আদমশুমারির কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও সংশয়। আইনসভায় বিতর্ক হয় ‘মহিলা সংরক্ষণ আইন’ কার্যকর ও লোকসভা–বিধানসভার আসন বাড়ানোকে কেন্দ্র করে। এই বিতর্কের মীমাংসা কীভাবে হতে পারে এখনো অজানা।

এই আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করেই লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়ার কথা। সে জন্য তৈরি করতে হবে ‘ডিলিমিটেশন কমিশন’। আইনসভায় নারীদের আসন সংরক্ষণ ৩৩ শতাংশ করতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুবদ্ধ। গত বছরেই সেই বিল পাস করা হয়। তখনই ঠিক করা হয়, আইন সভায় নারী আসন সংরক্ষণের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে এই আদমশুমারির পর।

আদমশুমারির কাজ ২০২৭ সালে শেষ হলে ডিলিমিটেশনের (নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ) কাজ শেষ করতে অন্তত দুই বছর লাগার কথা। সে ক্ষেত্রে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে নারী আসন সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশনের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার চাইছে তার আগেই ওই দুই কাজ সেরে ফেলতে।

এটি করতে গেলে সরকারকে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে সরকার চাইছে নারী আসন সংরক্ষণ ও লোকসভার আসন বাড়ানোর বিষয়ে দুটি পৃথক বিল আনতে, যাতে ২০২৯ সালের ভোটেই তা চালু করা যায়। সরকার চাইছে ওই দুই বিষয়কে এই আদমশুমারির আওতা থেকে বের করে আনতে।

তবে এটি করার জন্য আইনসভার উভয় কক্ষে সংবিধান সংশোধন বিল দুটিকে দুই–তৃতীয়াংশ ভোটে পাস করাতে হবে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বর্তমানে সরকারের নেই। সে জন্য বিরোধীদের সমর্থন প্রয়োজন।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য কংগ্রেস সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের ওপর চাপও সৃষ্টি করছে। বিরোধীদের বক্তব্য, আদমশুমারি যখন শুরু হয়ে গেছে, তখন তড়িঘড়ি করে ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে নারী আসন সংরক্ষণের বিষয়টি চূড়ান্ত করা অর্থহীন। নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়েও কংগ্রেসের একই অবস্থান। ফলে সরকার ও বিরোধীদের এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর।

সূত্র: প্রথম আলো