বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় ভুটানের জন্য একটি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় ১৩৩ একর জমির মালিকানাও পেয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
ভুটানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার কুড়িগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ভুটানি বিনিয়োগকারীদের জন্য সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের যোগাযোগ শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় বেজা কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার মাধবরাম মৌজায় ‘কুড়িগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চল-১’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ভুটানের রাজার আগ্রহের ভিত্তিতে জিটুজি যৌথ উদ্যোগের অধীনে বেজা উক্ত স্থানে একটি ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করে।
বর্তমান কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’র জন্য ভুটান সরকার দ্রুত ডেভেলপার কোম্পানি নিয়োগের পাশাপাশি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বেজা।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। সফরকালে তিনি প্রস্তাবিত ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ এলাকা পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে জিটুজি ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সূত্র: বাসস