পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন

পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন
পাকিস্তান নৌবাহিনীতে এআইপি প্রযুক্তির হাঙ্গর শ্রেণীর সাবমেরিন সংযুক্ত। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহরে অত্যাধুনিক এয়ার ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোপালশন (এআইপি) সমৃদ্ধ হাঙ্গর শ্রেণীর সাবমেরিন সংযুক্ত হয়েছে।

এ ধরণের মোট আটটি সাবমেরিন সংগ্রহ করবে দেশটি।

এর চারটি তৈরি হবে চীনে। বাকি চারটি টেকনোলজি ট্রান্সফারের মাধ্যমে তৈরি হবে পাকিস্তানের করাচি শিপইয়ার্ডে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান সাবমেরিন তৈরির যুগে প্রবেশ করলো।

টাইপ ০৩৯ এ মডেলের এই সাবমেরিনকে পাকিস্তান হাঙ্গর নামকরণ করেছে।

১৯৭১ সালে ফ্রান্সের তৈরি সাবমেরিন পিএনএস হাঙ্গর ( ডাফনে ক্লাস) ভারতীয় নৌবাহিনীর ফ্রিগেট আইএনএস কুকরিকে টর্পেডোর আঘাতে ডুবিয়ে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ওটাই ছিল সাবমেরিন দিয়ে কোন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়ার প্রথম ঘটনা।

ওই সাবমেরিনের নামে এখন নতুন মডেলের নামকরণ করেছে পাক নৌবাহিনী।

নতুন সাবমেরিনগুলোতে শক্তিশালী টর্পেডো ছাড়াও পাকিস্তানে তৈরি পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম বাবুর -৩ ক্রজ মিসাইল মিসাইল নিক্ষেপের প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।এতে করে সাবমেরিন থেকেও পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা যাবে ক্রজ মিসাইলের মাধ্যমে যাকে সেকেন্ড নিউক্লিয়ার স্ট্রাইক ক‍্যাপাবিলিটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই সাবমেরিন সহ বর্তমানে পাক নৌবাহিনী ফ্রান্সের তৈরি অগাস্টা ৯০ বি সাবমেরিন ব্যবহার করছে। এগুলোতেও এআইপি প্রযুক্তি রয়েছে।

মন্তব্যের ঘরে শাফিন রহমান নামে একজন লিখেন: এআইপি প্রযুক্তির কারণে ৬৫ দিন অব্দি এই সাবমেরিনকে সারফেসে আসতে হবেনা। এটা অনেক বড় অ্যাডভান্টেজ। তবে সবচেয়ে বড় কথা এই সাবমেরিন নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ক্যাপাবল বাবর ক্রুজ মিসাইল ছুড়তে সক্ষম। অর্থাৎ সেকেন্ডারি নিউক্লিয়ার স্ট্রাইক দিতে পারবে। একইসাথে চাইনিজ ওয়াইজে-১৯ সুপারসনিক মিসাইল সহ তুরষ্কের তৈরী আকোয়া হেভী টর্পেডো দ্বারা সজ্জিত থাকবে এই সাবমেরিনের আর্মামেন্টস আর্সেনাল।

খবর: চীনের সানইয়ায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)  এই সাবমেরিনের  কমিশনিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানায়, প্রেসিডেন্ট জারদারি এই ঘটনাকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তান নিজের সার্বভৌমত্ব, সামুদ্রিক স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম।

অ্যাডমিরাল আশরাফ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতা এখন বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তাই স্থিতিশীল ও নিয়মভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন শক্তিশালী নৌবাহিনী প্রয়োজন।

সূত্র: ফেসবুক টাইমলাইন